প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য, লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান, খালাসের সময় এবং ব্যয় কমানোর জন্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এসব উদ্যোগের সুফল পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি ও ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করে ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে। ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে, বাকি সাতটি ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাণিজ্য সংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদন এবং সেবাগুলো একই প্ল্যাটফর্মে আনতে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন করেছে। বর্তমানে ১৯টি সংস্থা এতে যুক্ত হয়েছে এবং আরো ১৮টি দপ্তরকে যুক্ত করার উদ্যোগ চলছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের কাজও চলছে।
এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। ঝুঁকি বিশ্লেষণ ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে পণ্য খালাস দ্রুত করার সুযোগ তৈরি হবে। অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও এনবিআর উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
কাস্টমস সেবায় ইতোমধ্যে পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগে খালাস প্রক্রিয়া শুরু এবং অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের জন্য ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট চালু করা হয়েছে।
সভায় পচনশীল কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত কমাতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। এছাড়াও খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা ও পরীক্ষাগার সুবিধা উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাটি পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন