প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শজিমেক হাসপাতালে মারামারির ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৬
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর পর ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় আটক হওয়া ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় মামলাটি করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজুর ছেলে মো. নাফিউল (২৬), ফুলবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকার মো. মিজানুর রহমানের ছেলে প্রান্ত (২২), ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে এস এম সিহাব (১৯) ও সবুজ প্রামানিকের ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৯), নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়া এলাকার মো. জাকির হোসেনের ছেলে মো. তানবিন শেখ (২৬) এবং নামাজগড় ভান্ডারী মসজিদ এলাকার মো. লোকমান হাকিমের ছেলে মো. বিপ্লব সরদার (২৬)। নাফিউল ও প্রান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের পরে পুলিশ হেফাজতে থানায় নেওয়া হবে। মামলার ১ নম্বর আসামি ফুলবাড়ী উত্তরপাড়া এলাকার মো. রনটির ছেলে মো. মনির (২৬) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে শজিমেক হাসপাতালের ৭ম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে রাজাপুর গ্রামের মো. আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মালেকের মৃত্যুর পর রোগীর স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, বার্মিজ চাকু ও লোহার রড ব্যবহার করে চিকিৎসকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারাত্মকভাবে আহত হন, যার মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর হাত ভেঙে যায় এবং আজরফ ইসলামসহ কয়েকজনের শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়।
হামলাকারীরা এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারি মালামাল ভাঙচুর করে আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং তিনটি মোবাইল ফোন ও স্ট্রেথোস্কোপ চুরি করে নিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িতদের আটক করে।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন ডাক্তার ও স্বজনদের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন আরো ২ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দিলে মামলা রুজু করা হয়।
গ্রেপ্তার দেখানো ৬ জন আসামিকে আজ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন