প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার প্রক্রিয়ায় হরমোন চিকিৎসা ও স্তন অপারেশন করানোর পর তরুণী রোজি আক্তার লিজা (৩১) মৃত্যুবরণ করেছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। অপারেশনটি গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে সম্পন্ন হয় এবং পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে তার মৃত্যুর খবর আসে, যা পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার (রব রাজ) এর কন্যা। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার পরিবারের সদস্যরা লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সন্ধ্যার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো আচরণ করতেন এবং ছেলেদের মতো চুল কাটাতেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জেনিফা প্রায়ই লিজার বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে থাকতেন। স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি সমকামী সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল।
জেনিফা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতেন। তার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য টাকা প্রদান করেন। সেই অর্থ ব্যবহার করে ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের একটি হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে লিজাকে ভর্তি করা হয়।
জেনিফার দাবি, অপারেশনের পূর্বে সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। তিনি জানান, লিজার মা-বাবার সম্মতি নিয়েই তিনি এই স্বাক্ষর করেছেন।
তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার জানিয়েছেন, জেনিফা যে স্বাক্ষর করবেন এবং তার স্বাক্ষরে অপারেশন হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি লিজার নাম ‘সরফরাজ’ রাখা হয়েছে, সেটিও তিনি ওইদিনই জানতে পারেন।
তিনি বলেন, “লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমনটা ওর মায়ের কাছে শুনেছি।”
লিজার মা ফজিলা বেগম জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করতেন না। তাকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। ছেলেদের সঙ্গে সংসার করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না।
তিনি আরও বলেন, জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এদিকে হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদে তার নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে, লিমন নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন পরিচয় দেন। তিনি জিএমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকসহ কেউই ফোনে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং এ ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন