প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সমন্বিত করার জন্য কাজ করছে। যাতে বিনিয়োগকারীরা এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সেই কারণে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রবিবার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই তথ্য জানান। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন যে, কোনো নির্দিষ্ট স্থাপনা বা শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে শেষ করা সব ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণে নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
তিনি জানান, বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেই জন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমানোর একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। বর্তমানে খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলমান। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন এবং নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।
বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা উঠে আসতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়েছে, ডিজেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করলেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।’
সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করেন জেবিসিসিআই নেতারা। তারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় আরও জোরদার হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন