প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের সমন্বয় বাড়ানোর জন্য চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
৫৯ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মিটারগেজ রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের ফলে একই লাইনে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ-উভয় রকমের ট্রেন চলাচল করতে সক্ষম হবে যা দক্ষিণ চট্টগ্রামে রেল চলাচলে নতুন গতি আনতে পারে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এস এম ইসমাইল খান বলেন, এতে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ উন্নত ও কার্যকর হবে, সেইসঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমবে এবং সড়কপথের ওপর চাপও হ্রাস পাবে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতেও একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হলে সড়কে যানজট কমে যাবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, জলাবদ্ধতা, শব্দদূষণ এবং স্থানীয় জনগণের চলাচলে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা এসব বিষয় যথাযথভাবে নজরদারি করার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডুয়েলগেজে রূপান্তরের পাশাপাশি বিদ্যমান সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্টেশন, প্ল্যাটফর্ম, লুপ লাইন, লেভেল ক্রসিং, সিগন্যালিং এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা অবকাঠামোও শক্তিশালী করা হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মঞ্জুরুল কবিরিয়া বলেন, নির্মাণকালের সময় পরিবেশগত প্রভাব কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের আশেপাশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার শব্দ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে কোনো গাছ কাটতে হলে অনেক গাছের বিপরীতে নতুন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বন উজাড়, বায়ু ও শব্দদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের দাবি করেছেন।
ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। জমি, স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গাছপালা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জিআরএমসি) গঠন করা হবে, যাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় এনজিওর প্রতিনিধিরা থাকবেন।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন অপরিহার্য হলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বাসস’কে বলেন, ডুয়েলগেজ রেললাইন চালু হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও গতিশীল হবে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, ডুয়েলগেজ রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন হবে এবং শিল্প ও বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল শিল্প ও কৃষিপণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও কমে আসবে। পাশাপাশি সড়কে যানজট কমার ফলে পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও প্রকল্পটি সহায়তা করবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. আসাদুল হক বলেন, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইন সম্পূর্ণ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের রেল যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে চূড়ান্ত পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন