প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩২) এখনও দাফন বা দাহ করা হয়নি। তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ায়, মারা যাওয়ার ছয় দিন পরেও তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রয়েছে।
শুভকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ইসলামি রীতিতে দাফন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তার মা, স্ত্রী ও ভাই। অপরদিকে, তার বাবা হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান। শুভর মৃত্যুর পরপরই তার মা ও স্ত্রী দাফনের জন্য চেষ্টা করলে বাবা বাধা দেন। দাফন বা দাহের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হলে স্ত্রীর পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। পরে গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, দাফন নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আদালতের কাছে গড়িয়েছে। লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মা ও ভাই উচ্চ আদালতে আবেদন করার পর ইসলামি রীতিতে লাশ দাফনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া একটার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
শুভর মা পার্বতী রানী দাস ও বাবা হরি চন্দ্র দাসের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০০৩ সালে তিন সন্তানসহ পার্বতী রানী হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর তার নাম হয় আয়েশা বেগম। দুই ছেলের নামও পরিবর্তন করা হয়। শুভর নতুন নাম রাখা হয় মো. বিল্লাল এবং তার ছোট ভাই সুজনের নাম হয় ইব্রাহিম। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) শুভ চন্দ্র দাস নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
শুভর ভাই ইব্রাহিম জানান, ধর্মান্তরের পর থেকে তারা মুসলিম পরিচয়ে জীবনযাপন করে আসছেন। ছোটবেলায় শুভ মাদ্রাসায় পড়েছেন। বর্তমানে বাবা হিন্দুধর্মের অনুসারী দাবি করে লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছেন।
শুভ মুসলিম পরিচয়েই বড় হয়েছেন, পরিবারের দাবি। প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মুসলিম তরুণী জ্যোতি আক্তারকে বিয়ে করেন। কাবিননামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুমাইয়া আক্তার নামে দুই বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে। তারা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
শুভর স্ত্রী জ্যোতি আক্তার জানান, তার স্বামী জীবিত থাকতে বলেছেন, মারা গেলে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করতে। কিন্তু তার শ্বশুর পুলিশ পাঠিয়ে মাসদাইর কবরস্থান থেকে লাশ নিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, "আমার স্বামী মরে গিয়েও শান্তি পাচ্ছে না। তারা তাকে কষ্ট দিচ্ছে। আমরা চাই, ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার লাশ দাফন করা হোক।"
তবে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন। তাই তিনি হিন্দু ধর্মীয় রীতিতেই ছেলের শেষকৃত্য করতে চান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, শুভর মায়ের আবেদনের পর লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল কিন্তু শুভর বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্যের জন্য লাশ চেয়ে আবেদন করেন। হস্তান্তরের আগপর্যন্ত লাশ ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরে শুভর মা ও ভাই উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুভকে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করার আদেশ দেন।
রিটকারী আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে আদেশ হওয়ায় আদেশের কপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি। রোববার কার্যদিবসের শুরুতেই আদেশের কপি পৌঁছানোর আশা করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন