প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন। ভোটের পরিবেশ বর্তমানে বেশ জমে উঠেছে।
রাজশাহী বিএনপিতে একটি গুঞ্জন উঠেছে যে, মনোনয়ন যার, তিনি মেয়র। ফলে, মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। প্রথমবারের মতো নগরপিতার আসনটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত নির্বাচনে জামায়াতের ভালো ফলাফলের কারণে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। রাজশাহী-২ আসনে তারা অল্প ব্যবধানে হেরেছিল কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনুর কাছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও জামায়াতের সফলতার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এনসিপিও তাদের পৃথক প্রার্থী দেবে। রাজশাহীতে অতীতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কয়েকবার মেয়র পদে জয়ী হয়েছে। এবার জামায়াত সেখানে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে।
১৯৮৭ সালে পৌরসভা থেকে সিটিতে রূপান্তরিত হয় রাজশাহী। সাড়ে ৩ লাখের কিছু বেশি ভোটারের এই নগরী সাজানো এবং ছিমছাম। এটিকে মডেল সিটি বলা হয়। রাজশাহীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান ভূমিমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ছিলেন সফল মেয়র। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটনও একাধিকবার মেয়র ছিলেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও এক টার্ম মেয়র ছিলেন।
জানা গেছে, এবার ক্ষমতাসীন বিএনপির ছয়জন নেতা মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সৈয়দ শাহীন শওকত, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মামুনুর রশিদ মামুন, মাহফুজুর রহমান রিটন, আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং ওয়ালিউল হক রানা। তবে, দল এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেয়নি। বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা কিছুটা বেশি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর প্রান্তিক ব্যবধানে জয়ের পর সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী আগেভাগেই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর কিছু মাস আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর নাম ঘোষণা করেছে। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি-জাপাও প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।
জামায়াতের ঘোষিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৭০ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে ২৮ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, মহানগরে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এবার তারা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী বলেন, "সিটি নির্বাচনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করতে আমাদের মাসব্যাপী বিশেষ গণসংযোগ কর্মসূচি চলছে।" প্রার্থীর সমর্থনে ওয়ার্ডে সুধী সমাবেশ করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্মসূচিগুলোতেও প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরে দলের পক্ষ থেকে আরও কর্মসূচি আসবে।
এনসিপির মেয়র প্রার্থী মোবাশ্বের আলীও নির্বাচনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, "আমাকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে আমি মাঠে আছি।" অন্যদিকে, জাপার মহানগর আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন মিন্টু বলেন, "নির্বাচন আসতে দেরি আছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।"
এদিকে, বিএনপির ছয়জন নেতা মাঠে সক্রিয় থাকলেও কেবল সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সরাসরি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ১২ জুলাই বন উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছেন। কয়েক মাস ধরে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি অনুপস্থিত। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী সিটি নির্বাচনে আবারও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাসিকের প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি না বললেও নগরজুড়ে নিজের এবং অনুসারীদের বিভিন্ন তৎপরতায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ওয়ার্ড বা মহল্লার মসজিদ কমিটি, ক্রীড়া সংঘ, ক্লাব সমিতিতে যাচ্ছেন। তার ব্যানার ও ফেস্টুন নগরজুড়ে ছেঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চলছে।
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, "রাজশাহীবাসীর মন জয় করাই আমার প্রথম কাজ। আমি সেই লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, "প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলের মূল্যায়ন ও মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। নগরবাসী সমর্থন দিলে রাজশাহীকে একটি আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।"
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হতে কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। নগরজুড়ে তারও ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। তিনি বলেন, "শিক্ষাজীবন থেকে রাজনীতি করছি। সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি। দল মনোনয়ন দিলে মেয়র পদে নির্বাচন করে নগরবাসীর সেবা করতে চাই।"
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনও মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা জানিয়েছেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা। তিনি বলেন, "দলের সব কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছি। দল আমাকে মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ দিলে বিপুল ভোটে জনগণের রায় পাব।"
মেয়র নির্বাচনে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতও আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি নির্বাচনমুখী কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। নিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, "বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দলে রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী হওয়ার মতো অনেক যোগ্য নেতা আছেন। তবে দল জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা-সবদিক মূল্যায়ন করে একজনকেই মনোনয়ন দেবে। এখনো দল থেকে কাউকে গ্রিন সিগনাল দেয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন