প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের বিমান হামলার ফলে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার আফগান কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এই হামলার ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রায় তিন মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে। ওই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই দেশের বিরোধের মূল কারণ হিসেবে পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ করা হয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান তার ভূখণ্ডে সশস্ত্র ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। সোমবারের বিমান হামলার কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলা হয়, যেখানে অন্তত ১৬ জন নিহত হন।
তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে জানান, পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত এবং আরও চারজন আহত হন।
তিনি আরও জানান, পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দুটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি দোকান ও একটি খালি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গত জুলাইয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি, তাদের বাহিনী ওই ড্রোনগুলো শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করে। এর আগে মার্চে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় বলে আফগান তালেবান জানায়।
তাদের দাবি, হামলায় একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসীদের সহায়তার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীতে ৪২২টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনো যুদ্ধবিমান নেই। তবে দেশটির কাছে অন্তত ৬টি বিমান, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কিছু ড্রোন রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে এসব ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন