প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আবারও রাতভর পাল্টাপাল্টি দূরপাল্লার হামলা সংঘটিত হয়েছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এই হামলার ফলে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সময়ে, ইউক্রেন রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগারে হামলার দাবি করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত থাকছেন না।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতেই জেলেনস্কি মার্কিন সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেনের প্রতি দুই দলের সমর্থনের জন্য তিনি সিনেটরদের ধন্যবাদ জানান। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার একটি বিল পাস করায় তাদের প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্প এই বিলটিতে স্বাক্ষর করে সেটিকে আইনে পরিণত করেছেন।
জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, "নিষেধাজ্ঞাগুলো পুরোপুরি কার্যকর হলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথ আরো সহজ হবে।" সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর জন্য তার প্রস্তাবগুলোও তুলে ধরেন।
এছাড়া, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইউক্রেনের আরো মার্কিন তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কিয়েভ। তিনি ট্রাম্পের কাছে এসব ব্যবস্থা সরবরাহের অনুরোধ জানাবেন।
ইউক্রেনের শস্য ও অন্যান্য কৃষিপণ্য যাতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থনও চাইছেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার হামলার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইউক্রেনের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় ফ্রান্স আরো রাডার সরবরাহ করবে। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ এবং কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধে সাময়িক বিরতির সম্ভাবনাও উঠে এসেছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার সামারা অঞ্চলে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশ্চেভ। তার দাবি, শিল্প স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্য ছিল।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ১৪টি রুশ অঞ্চল ও রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আকাশে ২৯৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০০টির বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর গানঝা জানান, দনিপ্রো শহরে রুশ হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। কিয়েভেও পাঁচজন আহত হওয়ার খবর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো দাবি করেছে, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে ধাতব ও রাসায়নিক শিল্প, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত, সামরিক শিল্প এবং পোর্ট অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। কিয়েভের একটি ফায়ার পয়েন্ট কারখানা এবং পোলতাভা অঞ্চলের একটি তামাক কারখানাও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে মস্কো দাবি করেছে।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখাচ্ছে যে, যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় পরিবর্তন না এলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে, জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন এবং যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন