প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম সাত বছর পর দেশের ঘরোয়া রেড-বল ক্রিকেটে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই তথ্য ডন পত্রিকার প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর বাবরের এই সিদ্ধান্ত আসছে।
বাবরের টেস্ট ব্যাটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে তার টেস্ট ব্যাটিং গড় ছিল যথাক্রমে ২২, ২০ এবং ৩১। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এই ফরম্যাটে প্রতিটি রানের জন্য সংগ্রাম করছেন। তবুও, ২০১৯ সালের পর থেকে তিনি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর খেলেননি। সর্বশেষ তিনি কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাইনালে নর্দার্নকে এক ইনিংস ও ১৬ রানে পরাজিত করে তার দল শিরোপা জিতেছিল।
বর্তমানে, প্রায় সাত বছর পর বাবর চলমান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানে ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ওজিডিসিএল) হয়ে ঘরোয়া রেড-বল ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন।
দলটির ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ফারাহ বাতুল ডনকে নিশ্চিত করেছেন যে, বাবর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তান ফিরে পরদিনই ওজিডিসিএল দলে যোগ দেবেন। ফারাহ বলেন, "বাবর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে ফিরবেন এবং পরদিন ওজিডিসিএল দলে যোগ দেবেন। তার কিট অর্ডার করা হয়েছে।"
তবে, বাবর সঙ্গে সঙ্গে খেলা শুরু নাও করতে পারেন। ওজিডিসিএল বর্তমানে ইসলামাবাদে প্রেসিডেন্টস ট্রফির প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান টেলিভিশনের মুখোমুখি হচ্ছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর পেশোয়ারে কিংসম্যান একাডেমির বিরুদ্ধে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের (কেআরএল) বিরুদ্ধে খেলবে দলটি।
ফারাহ আরও জানান, "বাবর ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে খেলবেন নাকি তৃতীয় ম্যাচ থেকে।"
ডনের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাবরকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ওজিডিসিএলকে দিয়েছে। পিসিবি চায় দেশের প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাররা ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নিক। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বাবরের এই ফেরা ঘটছে। পাকিস্তানের সাদা বলের অধিনায়করাও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি কেআরএলের হয়ে এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলি আঘা কিংসম্যান একাডেমির হয়ে খেলছেন।
জুলাই মাসে বাবর আবার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে তার শুরুটা ভালো-মন্দের মিশেলে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ড্র করার পর ইংল্যান্ডে ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে তার দল।
অধিনায়কের নিজের ব্যাটিংও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। চার বছর ধরে টেস্টে কোনো সেঞ্চুরি নেই বাবরের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ফর্মে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন তিনি। দুই টেস্টে ১৯৬ রান করে সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। তবে ইংল্যান্ড সিরিজে আবার কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। প্রথম টেস্টে চোটের কারণে মিস করার পর পরবর্তী দুই ম্যাচের চার ইনিংসে তিনি করেছেন ৮, ৬, ৭ ও ৭৬ রান।
এখন, ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বাবর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসছেন। ২০১৯ সালের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ ছাড়া দীর্ঘ ফরম্যাটে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। পাকিস্তানের টেস্ট পারফরম্যান্স এবং তার নিজের ব্যাটিং দুটোই এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে। প্রেসিডেন্টস ট্রফি একসময় বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট ব্যাটারের জন্য আবার ছন্দে ফেরার সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন