প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শুরুতে মাত্র তিন দিনে ৫ কোটি রুপির কিছু বেশি আয় হয়েছে। এরপর দর্শকদের কাছে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে সিনেমাটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়, আর আট সপ্তাহের প্রেক্ষাগৃহ প্রদর্শন শেষে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করে। বলিউডের বড় বাজেটের অ্যাকশন ও তারকাখচিত সিনেমার ভিড়ে ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ এমন ব্যতিক্রমী সাফল্য অর্জন করেছে।
১২ জুন মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিশাল প্রচারণা কিংবা চোখধাঁধানো অ্যাকশনের ওপর নির্ভর করেনি। বরং ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের স্মৃতি, দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা এবং শিকড়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্পই ধীরে ধীরে দর্শককে সিনেমাটির দিকে আকৃষ্ট করেছে।
শেষ পর্যন্ত ভারতের বাইরে থেকেও সিনেমাটি ২০ কোটির বেশি রুপি আয় করেছে। প্রেক্ষাগৃহে আট সপ্তাহের যাত্রা শেষে প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করায় ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সাম্প্রতিক বলিউডের চেনা বাণিজ্যিক ছকের বাইরে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
কী নিয়ে সিনেমার গল্প?
‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র কাহিনী ৯৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে। বয়সের কারণে তাঁর স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনের একটি পুরোনো অধ্যায় তাঁকে বারবার টেনে নিয়ে যায় ফেলে আসা পাঞ্জাবের দিকে।
আরো পড়ুন
‘দ্য অডিসি’র নারী চরিত্রগুলো কি হারিয়েছে নিজেদের গভীরতা?
দেশভাগের কারণে যে ভূমি আজ সীমান্তের ওপারে, সেখানে রয়েছে তাঁর কৈশোরের ভালোবাসার স্মৃতি। সেই মানুষটি এখনো বেঁচে আছেন কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই। তবু স্মৃতি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগে একবার সেখানে ফিরে যেতে চান তিনি।
তবে সিনেমাটি শুধু হারিয়ে যাওয়া প্রেমের গল্প নয়। দেশভাগের সময় সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসা বিভাজন, অনিশ্চয়তা ও মানসিক ক্ষতের কথাও ছবিটি তুলে ধরেছে। দুই দেশে ভাগ হয়ে গেলেও মানুষের ভেতরের আন্তরিকতা, মমতা ও ভালোবাসা যে সীমান্তের কাঁটাতারে থেমে থাকে না—গল্পের আবেগে সেই বিষয়টিও উঠে এসেছে।
বৃদ্ধকে সেই যাত্রায় নিয়ে বের হয় তাঁর নাতি। দাদা-নাতির এই যাত্রাই ধীরে ধীরে সিনেমার মূল গল্প হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে স্মৃতি, শিকড়, হারানো সময় ও ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষার গল্প।
নাসিরুদ্দিন শাহর অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক
সিনেমাটির আবেগের বড় জায়গা দখল করে আছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের চরিত্রে তিনি শুধু স্মৃতিভ্রংশের অসহায়ত্ব তুলে ধরেননি, বরং চরিত্রটির হাসি, দুষ্টুমি ও জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
আরো পড়ুন
সন্তান নিতে ইউরোপে ছুটছেন মার্কিন দম্পতিরা, চিকিৎসার সঙ্গে চলছে ভ্রমণও।
দিলজিৎ দোসাঞ্জও সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। তবে নাসিরুদ্দিন শাহর অভিনয়ই সিনেমাটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এ আর রহমানের সংগীতেও আলাদা আবহ
সিনেমাটির আবেগকে আরও গভীর করেছে এ আর রহমানের সংগীত। ইমতিয়াজ আলীর ধীরগতির গল্প বলার সঙ্গে রহমানের সুর চরিত্রগুলোর স্মৃতি ও আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে।
গীতিকার ইরশাদ কামিলের লেখা গানও গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। ‘দরিয়া’ গানে বাংলা লাইন ব্যবহারের বিষয়টিও আলাদা করে নজর কেড়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৪৭-এর দেশভাগের স্মৃতিকে পাঞ্জাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে।
আরো পড়ুন
শাহরুখকে প্রস্তাব দিয়েও ফিরলেন তিগমাংশু, কেন রাজি হননি কিং খান?
প্রেক্ষাগৃহের পর নেটফ্লিক্সে
৭ আগস্ট নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’। ফলে প্রেক্ষাগৃহের পর আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে সিনেমাটি।
বিশেষ করে দেশভাগের সময় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর কাছে সিনেমাটির ঘরে ফেরার গল্পটি আলাদা আবেগ তৈরি করতে পারে।
আরো পড়ুন
‘ছয় বছর জেলে থেকেও মারাঠি শিখিনি’, মন্ত্রীকে সঞ্জয়ের মজার জবাব।
সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে বড় বাজেটের অ্যাকশন ও জাঁকজমকপূর্ণ সিনেমার দাপটের মধ্যেও ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’র সাফল্য দেখিয়েছে যে দর্শক এখনো ধীরগতির গল্প, আবেগ ও শক্তিশালী অভিনয়ের সিনেমাকে গ্রহণ করেন।
এটি ইমতিয়াজ আলীর সিনেমাটি তাই শুধু প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয়ের গল্প নয়; বরং দেশভাগের ক্ষত, হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক আর ঘরে ফেরার আকাঙ্ক্ষাকে নরম ও মানবিকভাবে তুলে ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন