প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখার এবং জরুরিভাবে টিকা আমদানি না করার পেছনে চরম প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা জড়িত। তিনি উল্লেখ করেছেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার সেটি পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে জরুরি কোনো মজুতও (স্টক) রাখা হয়নি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হলো না, তা দেশবাসীর জানা জরুরি।" তিনি আরও জানান, "আমরা কোনো দোষারোপের রাজনীতি করতে চাই না তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে কোনো শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়।" এজন্যই একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।
টিকা সংকট উত্তরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করেছে এবং মাত্র এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন, যা একক ব্যক্তির চেয়ে পুরো পরিবারের ওপর বিপর্যয় ডেকে আনছে।
তিনি আরও জানান, দূরদূরান্তের হৃদরোগীরা যাতে নিজ বাড়িতে বসেই সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অ্যাক্রস-বিডি’ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন