প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জীবনে শান্তি চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবারই রয়েছে। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাশা, মানুষের আচরণ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা কিংবা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা অনেক সময় সেই শান্তিকে বিঘ্নিত করে। কিন্তু জীবনকে কিছুটা সহজ করার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব এবং স্বস্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
আজ থেকেই জীবনকে শান্তিপূর্ণ ও ঝামেলামুক্ত রাখতে বাদ দেওয়া যেতে পারে এমন ১২টি অভ্যাস।
১. সবাইকে খুশি করার চেষ্টা
সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব নয়। কারো মন রাখতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা, সময় ও মানসিক স্বস্তিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ভদ্রভাবে ‘না’ বলতে শিখুন।
২. সব কথার জবাব দেওয়া
কেউ সমালোচনা করলেই বা ভুল বুঝলেই পাল্টা উত্তর দিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সব তর্কে জড়ানো কিংবা নিজেকে বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে। কখনো নীরব থাকা ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
৩. অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা
কে কতটা সফল, কার কত টাকা, কে কেমন জীবন কাটাচ্ছেন—এসবের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা করা উচিত নয়। প্রত্যেকের জীবন, পরিস্থিতি এবং এগিয়ে যাওয়ার সময় আলাদা। নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিন।
৪. অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা
পরিবার, বন্ধু কিংবা কাছের মানুষের কাছ থেকে সব সময় নিজের মতো আচরণ আশা করলে হতাশ হতে পারেন। প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখা প্রয়োজন। অন্যের আচরণ আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তবে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে।
৫. অতীত নিয়ে পড়ে থাকা
আগে কী ভুল করেছেন, কে কষ্ট দিয়েছে কিংবা কোন সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে—এসব নিয়ে বারবার ভাবলে বর্তমানও অশান্ত হয়ে ওঠে। ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, প্রয়োজনে ক্ষমা চাইতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
৬. ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা
আগামীকাল কী হবে, কোনো কাজ সফল হবে কি না কিংবা অন্যরা কী ভাববে—এসব নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে বর্তমানের সময়টুকুও উপভোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করুন, তবে আজকের কাজকে গুরুত্ব দিন।
৭. অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করা
নিজের সব পরিকল্পনা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা সবার কাছে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। কাকে কতটুকু বলবেন, তা বুঝে নিতে হবে। বিশ্বাস অর্জনে মানুষকে সময় দিন।
৮. অন্যের সমস্যা নিজের কাঁধে নেওয়া
মানুষের পাশে দাঁড়ানো ভালো, কিন্তু সবার সমস্যা সমাধান করা আপনার দায়িত্ব নয়। নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতা বুঝে সহযোগিতা করুন। অন্যের সমস্যার কারণে নিজের জীবন অগোছালো হতে দেবেন না।
৯. লোকদেখানো জীবনযাপন
অন্যকে দেখানোর জন্য দামি পোশাক, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা সামর্থ্যের বাইরে খরচ করা থেকে বিরত থাকুন। আয় অনুযায়ী ব্যয় করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু সঞ্চয় রাখার চেষ্টা করুন।
১০. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো
অন্যের সাজানো সুন্দর মুহূর্ত দেখে নিজের জীবনকে অসফল মনে হতে পারে। অকারণে বারবার ফোন দেখা, অন্যের জীবন নিয়ে ভাবা কিংবা নেতিবাচক মন্তব্য পড়া মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করুন।
১১. নিজের যত্ন অবহেলা করা
ব্যস্ততার কারণে ঘুম, খাবার, বিশ্রাম ও শরীরচর্চা অবহেলা করবেন না। নিয়মিত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রতিদিন কিছুটা হাঁটা শরীর ও মনের সুস্থতায় সহায়ক।
১২. কষ্টদায়ক সম্পর্ক আঁকড়ে ধরে রাখা
কিছু সম্পর্ক বারবার মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে। কাউকে ক্ষমা করা মানেই তার সব আচরণ মেনে নেওয়া নয়। প্রয়োজন হলে নিজের সীমারেখা তৈরি করুন এবং মানসিক স্বস্তির জন্য দূরত্ব বজায় রাখুন।
শান্তিতে থাকতে প্রতিদিন যা করতে পারেন
জীবনকে সহজ করতে প্রতিদিনের জন্য কয়েকটি ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়া না করে দিন শুরু করুন। দিনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ ঠিক করুন। নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। পছন্দের গান শুনুন, বই পড়ুন কিংবা হাঁটতে বের হন। রাতে ঘুমানোর আগে সারাদিনের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে পরের দিনের পরিকল্পনা করে রাখুন।
সহজ জীবন মানে সমস্যা বা দায়িত্ব থেকে পালিয়ে থাকা নয়। বরং কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে, কোথায় নিজের সীমা টানতে হবে এবং কোন চিন্তা ছেড়ে দিতে হবে—তা বুঝতে শেখা শান্তিপূর্ণ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন