প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে তিন সন্তান হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে চলমান বিচার বাতিল করে দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারক এই সিদ্ধান্ত নেন, কারণ জুরি বোর্ড কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলার পরও জুরিরা ক্ল্যান্সিকে সন্তান হত্যার জন্য ফৌজদারি দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে একমত হতে পারেননি।
জুরি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। এরপর তিনি জুরিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
জুরিরা যখন কোনো বিষয়ে একমত হয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন, তখন সেটিকে ‘হাং জুরি’ বলা হয়। এর ফলে, ক্ল্যান্সিকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে প্রসিকিউশনও তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে কি না, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সেখানে প্রসিকিউশন নতুন করে বিচার করার আবেদন জানাবে, নাকি অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা জানা যাবে। ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন মিসট্রায়াল ঠেকানোর জন্য জুরিদের রায় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা সফল হয়নি। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী সাবেক নার্স ক্ল্যান্সি একটি মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ বহাল রয়েছে।
প্রসিকিউশন চাইলে নতুন করে বিচার করতে পারে অথবা ক্ল্যান্সির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে।
২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটসে নিজ বাড়িতে তিনি তার তিন সন্তানকে হত্যা করেন। শিশুদের মধ্যে ৫ বছর বয়সী কোরা, ৩ বছর বয়সী ডসন এবং ৮ মাস বয়সী ক্যালান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিশুদের হত্যার সময় তাদের গলায় ব্যায়ামের ব্যান্ড পেঁচিয়ে দেওয়া হয়। সন্তানদের হত্যার পর ক্ল্যান্সি নিজেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, এরপর বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ দেন, যার ফলে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।
তবে ক্ল্যান্সি সন্তান হত্যার ঘটনা অস্বীকার করেননি। তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীদের যুক্তি, সন্তানদের হত্যার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, তাই তাকে ফৌজদারি দায়ে দায়ী করা উচিত নয়।
মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং সমাজকে বিভক্ত করেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, "এটি একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি। দেখুন, সে একটি ভয়ানক কাজ করেছে। এর চেয়ে খারাপ আর হতে পারে না। এর একটা মূল্য দিতে হবে, মানসিক হাসপাতাল বা জেল বা ওইরকম কিছু একটা।"
মামলাটি কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। প্রসবোত্তর সাইকোসিস নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিচার কার্যক্রম অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল এবং প্রতিদিন দুই শতাধিক সাংবাদিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ক্ল্যান্সির সমর্থকেরা প্রায়ই আদালতের বাইরে জড়ো হতেন।
বিচারের বেশিরভাগ দিন গোলাপি পোশাক পরা ক্ল্যান্সির সমর্থক নারীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের প্রসব-পরবর্তী অভিজ্ঞতা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, তিনি লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাটি সম্পর্কে জানেন এবং ধারণা করছেন, মামলাটির আবার বিচার হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। তবে ক্ল্যান্সি এই ঘটনার জন্য শাস্তি পাবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের।
বিচারের সময় জুরিদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। শুক্রবার ক্ল্যান্সির আইনজীবী কেভিন রেডিংটন একজন জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। এর আগের দিন জুরিরা জানিয়েছিলেন, ওই জুরি ‘যুক্তিসংগত সন্দেহ’ সম্পর্কিত আদালতের নির্দেশনা সঠিকভাবে মানছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে জুরিদের সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং তাদের নিশ্চিত হতে হয় যে আসামির অপরাধ ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ প্রমাণিত হয়েছে। এই অপরাধ প্রমাণের দায়িত্ব প্রসিকিউশনের। বিচারক উইলিয়াম সুলিভান আইনজীবীর আবেদন নাকচ করে জুরিদের আবার আলোচনা করতে পাঠান। প্রায় এক ঘণ্টা পর জুরিরা আদালতে ফিরে জানান, তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
এরপর বিচারক মিসট্রায়াল ঘোষণা করেন। রেডিংটন সঙ্গে সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে জরুরি আপিলের সুযোগ চান। তবে ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত তার আবেদন নাকচ করে দেন। মিসট্রায়াল ঘোষণার সময় ক্ল্যান্সিকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
আদালতকক্ষে নেমে আসে নীরবতা। রেডিংটন বিচারকের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ওই জুরিকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বিচারকের ছিল।
রেডিংটন জানান, তিনি মিসট্রায়াল পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন আবেদন করবেন। এ বিষয়ে চলতি মাসের পরবর্তী শুনানিতে আলোচনা হতে পারে। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা বিচার শেষে জুরিরা সাত দিনে ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
প্লাইমাউথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টিমোথি ক্রুজ বলেন, মামলাটি আবার বিচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তার দাবি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিই তার তিন সন্তানকে হত্যা করেছেন এবং প্রমাণ অনুযায়ী, হত্যার সময় তিনি নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন।
আদালতের বাইরে রেডিংটন দাবি করেন, ওই একজন জুরি না থাকলে বাকি ১১ জন ক্ল্যান্সির পক্ষে রায় দিতেন। তবে জুরিদের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন