প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেঘ ও বৃষ্টির জন্য পরিচিত ঐতিহ্যবাহী দেশ ইংল্যান্ডে বর্তমানে মারাত্মক খরা দেখা দিয়েছে। প্রবল তাপপ্রবাহ এবং টানা বৃষ্টিহীন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নদীনালা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং এতে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট।
দেশটির প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে গুরুতর খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা ‘ওয়েদার হুইপল্যাশ’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবের ফলস্বরূপ। দক্ষিণ, মধ্য এবং পূর্ব ইংল্যান্ডজুড়ে এই প্রাণঘাতী খরা ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পরিবেশ সংস্থা।
ইংল্যান্ডে বছরের এই সময় স্বাভাবিকভাবে যে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল, বর্তমান সময়ে তা মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে মাত্র ১ শতাংশ হয়ে গেছে।
জুন মাসে ইংল্যান্ডে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে উষ্ণতম জুন হিসেবে চিহ্নিত। পানির অভাবে নদীগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৮% নিচে নেমে গিয়েছে।
বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরার কারণে সবজি ও ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, ফলে বাজারে খাবারের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সাফোক উপকূলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে দাবানলের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মে ও জুন মাসে প্রখর দাবদাহে তাপজনিত কারণে ইতিমধ্যে ২৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যে কারণে এই খরা দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক সুরক্ষার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই চরম আবহাওয়ার ঘনঘন পরিবর্তন হচ্ছে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোর সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আপাতত স্বস্তিদায়ক কোনো বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন