প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু রাতের আঁধারে নিলাম ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কালিরকুড়া টি-বাঁধ থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ট্রাকে করে এসব বালু সরানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে পরে বালু সরানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালিরকুড়া টি-বাঁধ এলাকায় পূর্বে থাকা দুটি বালুর পয়েন্টের সঙ্গে নতুন করে ১১টি পয়েন্ট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব পয়েন্ট ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু পরিবহনের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ কেটে এবং বাঁধের পিচিংয়ের ব্লক তুলে অন্তত সাতটি স্থানে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে বাঁধের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৩টি পয়েন্ট থেকে প্রায় ৯ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করে সিলগালা করা হয়।
পরে ৩০ মে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও বাঁধ রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। সেই সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাঁধ কেটে তৈরি করা বালু পরিবহনের কয়েকটি রাস্তা ভেঙে দেন।
জব্দ করা বালু পাহারা ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক ও মুকুল মণ্ডলকে জিম্মাদার করা হয়। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, ইউপি সদস্য আসলাম হক নিজেই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁকে জিম্মাদার করার সময় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের ধারণা, আসলাম হকের পরামর্শেই ব্যবসায়ীরা সিলগালা করা বালু সরিয়ে নিয়েছেন। তবে ইউপি সদস্য মো. আসলাম হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বালু নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার প্রতিপক্ষরা মিথ্যাচার করছে। বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। তিনি বালু নিয়ে যাওয়াদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে বলেছেন।’
অপর জিম্মাদার মুকুল মণ্ডল জানান, ‘বিষয়টি আমি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তিনি আমাকে বালুবাহী গাড়ি আটকাতে বলেছেন।’
এ বিষয়ে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জব্দ করা বালু চুরির বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতি দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন