প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রম করার পরেও, উর্দূভাষী জনগণের পরিচয় নিয়ে অবহেলা অব্যাহত রয়েছে। তাই, পাকিস্তানি বা বিহারি হিসেবে নয়, তারা উর্দূভাষী বাংলাদেশি হিসেবে স্বীকৃতি দাবি করছেন। এটি তাদের ন্যায্য দাবি এবং এই দাবি আদায়ে তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সৈয়দপুরের ১১৬টি ক্যাম্পে বসবাসরত বাসিন্দারা মানববন্ধন চলাকালে উর্দূভাষী বাংলাদেশি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি, মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। সৈয়দপুর উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটি এবং বাংলাদেশ উর্দূভাষী অধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় সৈয়দপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ উর্দূভাষী অধিকার আন্দোলন সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা এবং সৈয়দপুর উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটি।
সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দপুর উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ উর্দূভাষী অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাজিদ ইকবাল।
বক্তৃতা প্রদান করেন বাংলাদেশ উর্দূভাষী অধিকার আন্দোলন সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলা শাখার আহবায়ক মো. নাসির, যুগ্ম আহবায়ক আবু রায়হান, উর্দূভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি নুর হাসান মোলাম, সহ সভাপতি সানজিদা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাজাদা, দপ্তর সম্পাদক মোছা. সোনি বেগম এবং ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সদস্য মো. গোলাম, মোছা. হামিদা, আলাউদ্দিন, আজগার আলী, মোছা. বিন্দিয়া, ইসমাইল আলম, মো. শাহাজাদা, মো. চাঁন প্রমুখ।
ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধন ও সমাবেশে সৈয়দপুরের ২২টি ক্যাম্পের সহস্রাধিক নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা জানান, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে দেশের নয়টি জেলায় ১১৬টি ক্যাম্পে প্রায় তিন লাখ উর্দূভাষী মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। যদিও তারা নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছেন, তবুও মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত রয়েছেন। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
এই জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি, আটকে পড়া বিহারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা তাদের নাগরিক পরিচয় এবং অধিকার নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। বক্তারা উল্লেখ করেন, উর্দুভাষী জনগণের নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করতে উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৩ ও ২০০৭ সালের রায়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর ২০০৮ সাল থেকে ক্যাম্পে বসবাসকারী বাসিন্দারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচিতির দাবি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তাদের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের রায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরেও তাদেরকে ‘আটকে পড়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের পরিচয় নতুন প্রজন্মের সামাজিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মানববন্ধন চলাকালে নেতৃবৃন্দ চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- দেশের ১১৬টি ক্যাম্পে বসবাসরত জনগণের সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু করা, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীর বিদ্যুৎ সংযোগ নিরবিচ্ছিন্ন রাখা এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে সরকারি উদ্যোগ নিশ্চিত করা।
এছাড়া, মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পবাসীদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ‘আটকে পড়া’ পরিচয়ের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ পরিচয়ের মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্যাম্পবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন