প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ম্যানচেস্টার সিটি প্রিমিয়ার লিগের শতাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, ক্লাবটির আত্মবিশ্বাসের দেয়াল এখনও ভাঙেনি। সিটির চেয়ারম্যান খালদুন আল-মুবারক এই আইনি লড়াইয়ের নাটকীয়তাকে আসল সত্য প্রকাশের পূর্ববর্তী আবহ হিসেবে দেখছেন। চূড়ান্ত শুনানিতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করে ক্লাবটি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হবে, এমন দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে চেয়ারম্যানের।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটির আইনি অবস্থানকে বিশ্লেষকরা ‘রোপ-আ-ডোপ’ কৌশল হিসেবে দেখছেন, যা প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার উদ্দেশ্যে। ক্লাবটি জনপ্রিয় কার্টুন ‘স্কুবি-ডু’-র রহস্য উন্মোচনের মতো করে এগোচ্ছে।
তাদের লক্ষ্য, শেষ মুহূর্তে সব অভিযোগের মুখোশ খুলে নিজেদের নির্দোষিতার চূড়ান্ত প্রমাণ হাজির করা। খ্যাতনামা আইনজীবী লর্ড প্যানিক কেসির ওপর ভরসা করে সিটি কর্তৃপক্ষ একটি অবিশ্বাস্য ও ঝুঁকিপূর্ণ আইনি চাল চালাচ্ছে।
এদিকে, ২০১২ সালে সিটিকে প্রিমিয়ার লিগ জেতানো সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনির ‘দ্বৈত চুক্তি’ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে মানচিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা তার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নয়।
এই আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে ফুটবল বিশ্বে জাতি-রাষ্ট্রের মদদপুষ্ট ফুটবল প্রজেক্টগুলোর সবচেয়ে সোনালী এক দশকের অবসান হতে যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। পেপ গার্দিওলার অধীনে আকাশি-নীল শিবিরের সোনালি সময় এখন নজিরবিহীন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
ফুটবল ইতিহাসে সম্পূর্ণ নজিরবিহীন এই ঘটনার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশাল বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি কয়েকটি ধাপে অগ্রসর হতে পারে। প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞায় চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ সিটির চূড়ান্ত শাস্তি ঘোষণা করতে পারে। শাস্তি ঘোষণার পর ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। উভয় পক্ষের এই আইনি লড়াই ব্যয়বহুল হবে এবং এটি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
বর্তমানে সিটির শাস্তির মাত্রা কতটা বড় হবে, তা নিয়েই ফুটবল পাড়ায় আলোচনা চলছে। সমালোচকরা সিটির পতন দেখতে উদগ্রীব হলেও, তাদের উদযাপনে জল ঢেলে দিতে পারে সিটির আইনি দল।
শাস্তির তীব্রতা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা গুঞ্জন রয়েছে। সবচেয়ে নমনীয় শাস্তি হিসেবে সিটিকে বড় অঙ্কের জরিমানা, এক মৌসুমের জন্য পয়েন্ট কেটে নেওয়া এবং দলবদলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (ট্রান্সফার ব্যান) দেওয়া হতে পারে।
তবে, এই ধরনের শাস্তি কেবল লোকদেখানো হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। বাস্তব ফলাফলের চূড়ান্ত হাতুড়িপেটা ছাড়া এই রায়ের কোনো কার্যকারিতা থাকবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন