প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নানা অনিশ্চয়তা ও নাটকীয়তার পর অবশেষে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ৮৩০ জন পর্যটক নিয়ে চলতি মৌসুমের প্রথম জাহাজ এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ১১টার সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্তের কথা জানান সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসকের সম্মতি না পাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। তবে আগে থেকে টিকিট কাটা পর্যটকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে পর্যটক পরিবহনের জন্য তিনটি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে- এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। যাত্রী পরিবহনের জন্য জাহাজগুলোর সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের বসার চেয়ারও পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
জাহাজগুলোর দায়িত্বে থাকা নুরুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সরকারি অনুমোদন পাওয়ায় জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা নেই।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম কাজল জানান, সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকদের জন্য একমুখী জাহাজভাড়া সর্বনিম্ন ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকিটে কেবিনের সুবিধা রয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই বৃহস্পতিবার থেকে তিনটি জাহাজে পর্যটক পরিবহনের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী টিকিট বিক্রিও শুরু করে জাহাজ কর্তৃপক্ষ। রাত ৮টা পর্যন্ত ৭০০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মতি না পাওয়ায় জাহাজ চলাচল অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তখন হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছিলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসকের সম্মতি না থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। পরে রাত ১১টার দিকে সম্মতি পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়, আগে টিকিট কাটা সব পর্যটক বৃহস্পতিবার একটি জাহাজে সেন্টমার্টিন যাবেন। বাকি দুটি জাহাজ শুক্রবার থেকে চলাচল করবে।
হোসাইন ইসলাম বাহাদুর আরও জানান, জাহাজ চলাচলের অনুমোদন পেতে এ পর্যন্ত মোট নয়টি জাহাজ আবেদন করেছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পূর্ণাঙ্গ নথি জমা দেয়ার পর তিনটি জাহাজ অনুমোদন পেয়েছে। বাকি ছয়টির আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করা অনেক পর্যটকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে সকাল ৭টায় জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার কথা।
তিনি আরও জানান, পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে সমন্বয় সভা হবে। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পর্যটক পরিবহন ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন