প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৮৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারে ঘটে যাওয়া একটি জোড়া হত্যা আজও রহস্যময়। কুঠারের আঘাতে প্রাণ হারান লিজি বোর্ডেনের বাবা অ্যান্ড্রু বোর্ডেন এবং সৎমা অ্যাবি বোর্ডেন। ওই দিন বাড়িতে লিজি ছাড়া আর একমাত্র উপস্থিত ছিলেন পরিবারের পরিচারিকা ব্রিজেট সুলিভান।
এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদন।
নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘মনস্টার: দ্য লিজি বোর্ডেন স্টোরি’-তে এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে এসেছে। সিরিজে ব্রিজেট সুলিভানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভিকি ক্রিপস। তবে বাস্তবের এই পরিচারিকাকে হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হিসেবে নয়, বরং লিজি বোর্ডেনের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রেমের সম্পর্কের গল্পও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে আলোচিত হয়েছে।
ব্রিজেট সুলিভানের জন্ম আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কর্কে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। ১৮৯৩ সালের ৭ জুন আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি বোর্ডেন পরিবারের হয়ে প্রায় দুই বছর নয় মাস কাজ করেছেন।
তাঁর দায়িত্বের মধ্যে রান্না, কাপড় ধোয়া, ইস্ত্রি করা এবং ঘর পরিষ্কার করা অন্তর্ভুক্ত ছিল। লিজি ও তাঁর বোন এমা তাঁকে ‘ম্যাগি’ নামে ডাকতেন।
১৮৯২ সালের ৪ আগস্ট সকালে তিনি বাড়ির জানালা পরিষ্কার করছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বেলা ১১টার কিছুক্ষণ পর লিজি তাঁকে চিৎকার করে নিচে আসতে বলেন। লিজি জানান, তাঁর বাবা মারা গেছেন এবং কেউ বাড়িতে ঢুকে তাঁকে হত্যা করেছে। পরে ব্রিজেটকে চিকিৎসক ডেকে আনতে পাঠানো হয়।
লিজি বোর্ডেনের বাবা ও সৎমা হত্যার মামলায় ব্রিজেট সুলিভানের সাক্ষ্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, হত্যার সময় তিনি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ শোনেননি এবং বাড়ির আশপাশে কাউকে আসতেও দেখেননি।
লিজি বোর্ডেনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তিনি খালাস পান। হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
তবে পরবর্তী সময়ে কিছু লেখায় ব্রিজেট সুলিভানকে সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। কিছু তদন্তকারী মনে করতেন, তিনি আদালতে সব কথা বলেননি। এমন দাবিও করা হয়েছে যে, জানালা পরিষ্কার করার সময় তাঁর কিছু বিষয় নজরে আসার কথা ছিল।
তবে এসব দাবি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। ব্রিজেট হত্যাকাণ্ডে সহযোগী ছিলেন—এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
লিজি বোর্ডেন ও ব্রিজেট সুলিভানের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল—এমন ধারণা বিভিন্ন উপন্যাস, চলচ্চিত্র ও সিরিজে উঠে এসেছে। ১৯৮৪ সালের ‘লিজি’ উপন্যাস, ২০১৮ সালের একই নামের চলচ্চিত্র এবং নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজেও এই সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হয়েছে।
তবে বাস্তবে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই। ফলে সিরিজে দেখানো এই সম্পর্ককে ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং কাহিনির একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা বা নাটকীয় উপস্থাপনা হিসেবে দেখা যায়।
হত্যাকাণ্ডের কয়েক বছর পর, ১৮৯৭ সালে ব্রিজেট সুলিভান মন্টানার অ্যানাকোন্ডায় চলে যান। ১৯০৫ সালে তিনি জন সুলিভানকে বিয়ে করেন। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি সেখানেই কাটান।
১৯৪৮ সালের মার্চে মন্টানার বাট শহরের একটি কাউন্টি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮১ বছর।
উল্লেখ্য লিজি বোর্ডেনের পরিবারের হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আর সেই রহস্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ব্রিজেট সুলিভানকে ঘিরে বাস্তব ইতিহাস ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির গল্প—দুই-ই নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেটফ্লিক্সের সিরিজে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন