প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে পাঁচ দিনের এই উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দেবী দুর্গার বোধন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নগর ও জেলার মণ্ডপগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক মূর্তি ও বাহারি সাজে।
এবার চট্টগ্রাম নগরের ২৯৪টি এবং জেলার ১,৬৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১,৯৪৯টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধন ও আনুষ্ঠানিক পূজা শুরু হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহাষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ সন্ধিপূজা, যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মহানবমীতে পূজার গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এবং দেবীর ভোগ নিবেদন করা হবে। উৎসবের শেষ দিনে বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। দুর্গা ও অন্যান্য মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রা করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বিসর্জন দেওয়া হবে।
পূজা সমন্বয় কমিটির সদস্য বিপ্লব পার্থ জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা চাল ও আর্থিক অনুদান বেড়েছে। পাশাপাশি পূজার ছুটিও বাড়ানো হয়েছে, যা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে। তিনি আরো জানান, মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এই সফরকে তিনি চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবারের দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের সঙ্গে ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনের তাৎপর্য হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে তাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তিতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। পরে মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে তাকে পরাজিত ও বধ করেন দেবী। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার এই পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করেই দুর্গাপূজার আয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন