প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে (৫৫) সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য প্রকাশ করেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আশিকুজ্জামান ওরফে আলো মিয়া (৩৫) এবং তার ভাই আসাদুজ্জামান (৩২)। তাদের বাসস্থান উপজেলার বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আশিকুজ্জামানকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হত্যার শিকার মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের চক সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার আবাসস্থল একই উপজেলার সুখদেবপুর এলাকায় অবস্থিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পার্বতীপুরের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রয়াত আজিজুল হকের বাড়িতে নির্মাণকাজের পারিশ্রমিক, ইউক্যালিপটাস গাছের গুঁড়ির হিসাব এবং শ্রমিকদের মজুরি বণ্টন নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এছাড়াও বাড়ির পাশের রাস্তার জমি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে দুই ভাইয়ের বিরোধ চলছিল।
নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত কাঠমিস্ত্রি ফরতাজ হোসেনের সঙ্গে আজিজুল হকের ছেলে আল রোমানের বিরোধ দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন আরও জানান, বিরোধের একপর্যায়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আশিকুজ্জামান তাকে সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে।
প্রাণ বাঁচাতে মনোরঞ্জন রায় সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করা হয়। পরে ধানখেতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১৩ বছর আগে আজিজুল হকের মৃত্যুর পর থেকে তার পরিবারের দেখাশোনা করতেন মনোরঞ্জন রায়। ওই পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিরোধ মেটাতে গিয়েই তিনি হামলার শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন