প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হরমুজ প্রণালীর লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ইরান। একই সঙ্গে, ইরানের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসনের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং হামলায় সহায়তাকারী সকল পক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় লারাক দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তেহরান দাবি করেছে, এই হামলা ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন করেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হামলায় কয়েকজন ইরানি নাগরিক ও দেশরক্ষী নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনারও ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার জবাবে এবং আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, এসব ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের উৎস ও সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
লারাক দ্বীপে হামলাকে জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারার ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এবং হামলাকারীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে দেশটি।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী দেশগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, আঞ্চলিক নৌপথে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’।
ইরানের ভাষ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির ওপর হামলার মধ্য দিয়ে এই পরিস্থিতির শুরু এবং গত ছয় মাস ধরে তা বিভিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সামুদ্রিক অবরোধ, উসকানিমূলক তৎপরতা ও হস্তক্ষেপমূলক পদক্ষেপও রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে দ্বিধা করবে না এবং দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের ‘দৃঢ় ও যথাযথ’ জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, নতুন মার্কিন আগ্রাসন, ইরানের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে। এছাড়া, এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বা অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোকে সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন