প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। এ সময় হানিফ মেহমুদ নামে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় জসিমবাউদ্দিন জসিকেও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত। হানিফ মেহমুদ এশিয়ান টেলিভিশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এবং জসিম উদ্দিন জসি বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি।
হানিফ মেহমুদ জানান, পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর এক সহকর্মী সেখানে যান। এ সময় অনিয়মের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে কর্মচারী মো. ইমরান হোসেন বাধা দেন এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। সঙ্গে থাকা সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জসিকেও হেনস্তা করা হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাঁর মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সিনিয়র সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে তাঁদের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সাংবাদিক জসিম উদ্দিন জসি বলেন, “ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অফিসের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি মূল ফটকও বন্ধের নির্দেশ দেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। প্রায় ২০ মিনিট আমাদের আটকে রাখা হয়। এরপর আমাদের ছেড়ে দিলেও প্রায় চার ঘণ্টা পর সহকারী পরিচালক মোবাইল ফোন ফেরত দেন।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ইমরান হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া উচিত হয়নি। পরে তাঁদের মোবাইল ফোন বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আলী বলেন, সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তখনও সহকারী পরিচালকের কক্ষে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন রাখা ছিল। তবে এ ঘটনায় কেউ তাঁদের কাছে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিটিজেএ) সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও অনিয়মের চিত্র ধারণ করা পেশাগত দায়িত্ব। পাসপোর্ট অফিসে ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন