প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিগারেট উৎপাদনে ব্যান্ডরোলের অপব্যবহার এবং ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে।
গাজীপুরের কাউলতিয়ায় অবস্থিত ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এই ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানের সময় প্রায় ৫০ লাখ শলাকা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ধরা পড়ে।
গত ২ সেপ্টেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার একটি প্রতিরোধী দল কারখানাটিতে অভিযান চালায়। একই সময়ে কারখানা ও কাছের একটি গুদামে দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকারী দল গিয়ে দেখতে পায়, বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভেতরে সিগারেট উৎপাদন চলছে। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে কর্মকর্তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি এগুলো ধ্বংসের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক লিখিতভাবে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ জব্দ করা হয়।
তল্লাশির সময় কারখানা ও সংলগ্ন গুদাম থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়।
জব্দ করা মোবাইল ফোনের বার্তা, বিক্রির তথ্য ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা দেখতে পান, উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ ভ্যাট চালান বা মূসক-৬.৩ ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব তথ্য মূল হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক হিসাবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৭/২০২৬। জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন