প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি অভূতপূর্ব সামরিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। টানা ১০ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন একাধিক বিমান ঘাঁটি, রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, ইরান তেহরানের অনুমোদন না মেনে প্রবাহে প্রবেশের চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও আঘাত হেনেছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম অনিশ্চিতাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
ইরানি সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় মার্কিন রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্গে রিফায় প্যাট্রিয়ট সিস্টেমকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এছাড়া শেখ ইসা সামরিক ঘাঁটিতেও তারা ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। কুয়েতের আহমেদ আল-জাবের ও আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে স্যাটেলাইট এবং টেলিযোগাযোগ কেন্দ্রসহ ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনা আবাসনে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে তেহরান। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমান এবং রাডার ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটিতে হরমুজ প্রণালিতে এক ফোঁটা তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণের মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। মাঝখানে জুনের মাঝামাঝি সময়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও ওয়াশিংটনের চুক্তি পুনঃব্যাখ্যার প্রচেষ্টা এবং হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ পুনরায় আরোপের পর সংঘাতের নতুন মাত্রা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কঠোর সমালোচনা চলমান রয়েছে।
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন এবং মার্কিন সেনাদের সুরক্ষায় প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির ঘোষণা করেছেন। এই বহুমুখী সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার গুঞ্জনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ওঠানামা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন