প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গভর্নর আওয়াদ আল-ওয়াজির এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হামলার ঘটনা ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আল-আলম প্রশিক্ষণ শিবিরে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে আহত মানুষ ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালে হুথিরা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। গভর্নর জানিয়েছেন, হামলার পর ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
শাবওয়া, যা এডেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত, ইয়েমেনের জ্বালানি-সমৃদ্ধ প্রদেশগুলোর একটি। এখানে দেশটির বৃহত্তম শিল্প বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত বালহাফ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা রয়েছে।
হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি প্রশিক্ষণ শিবিরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা জানান। তিনি দাবি করেন, শিবিরটি সৌদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় হুথিদের অগ্রসর হওয়ার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও তাদের সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেড়েছে। চলতি মাসে সরকারি বাহিনী হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির কাছাকাছি কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
অন্যদিকে, হুথিরা দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকার তাইজ শহর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। শহরটি হুথিবিরোধী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ইয়েমেনের সংঘাত এখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনাও রয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হয়। পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হস্তক্ষেপ করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। ২০২২ সালে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তী সময়ে দেশটিতে আবারও সংঘর্ষ বেড়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। দেশটির বহু মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন