প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিলের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। এই তহবিলের একটি বড় অংশ শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের কাছে ১১টি বরাদ্দ বাতিলের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, এই বরাদ্দগুলোর মোট মূল্য ৮১০ মিলিয়ন ডলার। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা, আবাসন ও নগর উন্নয়ন, বিচার এবং অন্যান্য খাতের তহবিল এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই বরাদ্দের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের এমন কর্মসূচি থেকে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, একাকী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং অন্যান্য অমার্কিন নাগরিকদের সেবা দেওয়া হতো। এছাড়া অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং অন্যান্য শিক্ষা ও সামাজিক সেবা কর্মসূচির অর্থও বাতিলের আওতায় রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব তহবিলের কিছু অংশ আর প্রয়োজনীয় নয় এবং প্রশাসনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ কমে যাওয়ায় অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মসূচিতে আগের মতো অর্থের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু কংগ্রেসের সদস্যরা এই উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সিনেটের বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান সুসান কলিন্স বলেছেন, কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থ নির্বাহী শাখা একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না। ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মুরেও এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন যে পদ্ধতি ব্যবহার করছে, সেটিকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। সাধারণত কংগ্রেসকে বরাদ্দ বাতিলের প্রস্তাব পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে এবারের প্রস্তাবটি ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে পাঠানো হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সময় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সরকারি নজরদারি সংস্থা গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস এই ধরনের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে কংগ্রেস অনুমোদিত অর্থ আটকে রাখার এই পদ্ধতি কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে পাশ কাটানোর প্রশ্ন তৈরি করে। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন