প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নামে নামে যমে টানে বলে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে। তবে যমে না টানলেও আলাস্কায় নাম বিভ্রাটের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আলাস্কার দুই প্রার্থীর নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বর্তমানে আলাস্কার সিনেটর রিপাবলিকান। ডেমোক্র্যাটরা এই আসনটি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই আসনটি দখল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে নাম নিয়ে বিতর্ক।
আলাস্কার বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটরের নাম ড্যান এস. সুলিভান। তবে এবারের ব্যালটে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র নামের আরেকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি কোনো দলের প্রার্থী নন। তবে বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যে আগে থেকেই হৈচৈ শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, একই নামের দুই প্রার্থী ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কিন্তু গত জুন মাসে আলাস্কার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে দ্বিতীয় ড্যান সুলিভানের প্রার্থিতা বৈধ এবং তার নাম ব্যালটে থাকবে। যে কোনো নির্বাচনকে আগে থেকেই বিতর্কিত করে রাখতে ট্রাম্প শিবিরের জুড়ি নেই। হারলে যাতে অজুহাত তৈরি থাকে, সেজন্য তারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আলাস্কায় তো অজুহাত তৈরি হচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগ আলাস্কার ফেডারেল আদালতে একটি নজিরবিহীন মামলা করেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে যে, যদি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান অল্প ব্যবধানে হেরে যান, তবে আলাস্কা রাজ্য সরকার যেন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল শংসাপত্র জারি করতে না পারে। পরদিন অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন, তিনি নিজেই বিচার বিভাগকে এই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে আলাস্কার নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং রাজ্যটির আইন বিভাগ এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি হলো, আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের নির্বাচন কিভাবে পরিচালিত হবে বা ব্যালটে কে থাকবে—তা সম্পূর্ণ রাজ্য আইনের বিষয়, এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।
মুখপাত্র স্যাম কার্টিস বলেন, ‘ব্যালটে প্রার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা রাজ্য আইনের বিষয়, কোনো ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় আইন নয়।’ কিন্তু আইনের চেয়ে রাজনীতিতে মানুষের ধারণাই সব সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে নিউইয়র্ক টাইমস এই বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে। গত ২৮ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সট মেসেজ ও নথির বরাত দিয়ে উন্মোচন করা হয়, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির ও জাতীয় ডেমোক্র্যাটিক দল পরিকল্পিতভাবে আলাস্কার ভোটার তালিকা ঘেঁটে ‘ড্যান সুলিভান’ নামের লোকদের খুঁজে বের করেছিল।
উদ্দেশ্য ছিল— একই নামের ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং বর্তমান সিনেটরের ভোট কেটে পেলটোলাকে জেতানো। তবে মেরি পেলটোলার প্রচার শিবির এই নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা একে ‘নোংরা রাজনীতি’ ও ’কারচুপি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এভাবে ছায়া প্রার্থী দাঁড় করানোর কৌশল আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন নয় এবং এটি আইনিভাবে নিষিদ্ধ বা অবৈধও নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি ট্রাম্পের শোচনীয় জনপ্রিয়তার রেটিং, উচ্চ জ্বালানি তেলের দাম এবং অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তবে চাইলেও আলাস্কার ভোটারদের বিভ্রান্ত করা অত সহজ নয়। নাম নিয়ে বিতর্কের কারণে ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে আলাস্কার নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপারে বড় ধরনের পার্থক্য করে দিয়েছে। বর্তমান সিনেটরের নামের পাশে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে— ড্যান এস সুলিভান (রেজিস্টার্ড রিপাবলিকান, বর্তমান পদাধিকারী)।
অপর প্রার্থীর নাম লেখা থাকবে ড্যানিয়েল জে. সুলিভান জুনিয়র এবং তার পাশে কোনো দলীয় প্রতীক বা রাজনৈতিক দলের নাম থাকবে না। তাছাড়া আলাস্কায় ‘র্যাংকড-চয়েস’ ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যেখানে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্রমানুসারে (১ম পছন্দ, ২য় পছন্দ) ভোট দিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাপক প্রচার ও কড়াকড়ির কারণে সাধারণ ভোটাররা এখন সতর্ক, যার ফলে এই ডামি প্রার্থীর কারণে ভোটের ফলাফলে খুব বড় পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা কম। ভোটাররা বিভ্রান্ত হোন আর না হোন, রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেলে যে ভবিষ্যতে এ বিতর্ক অনেকদূর যাবে, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন