প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য ফেসবুকে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, পূর্ববর্তী মাজার কমিটির কর্মকর্তারা ব্যাংক হিসাব থেকে দুই দফায় সাড়ে সাত লাখ টাকা, দোকানের অগ্রিম বাবদ এক কোটি ২০ লাখ টাকা, ৬৮টি ডেকচি, কয়েকটি এসি, এবং মাজারের আঙিনার বেশ কয়েকটি বড় গাছ কেটে ফেলা এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম আত্মসাত করেছেন। লুটপাটের তথ্য গোপন করার জন্য আগের কমিটি সব হিসাব বা কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে আওয়ামী লীগের লোকজন সারা দেশে লুটপাট চালিয়েছে, এবং মাজারও এই লুটপাটের আওতায় এসেছে। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের ডেকচি চুরির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাজারে গিয়ে মাজার ও এতিমখানার বিভিন্ন সরঞ্জাম গুণে দেখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাজা গরীব উল্লাহ শাহ (রহ.) মাজারের ডেকচি চুরির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে এ ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন ও তার অনুসারীদের দায়ী করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, গরীব উল্লাহ শাহ মাজার পরিদর্শনে যান চসিক প্রশাসক শাহাদাত হোসেন। ডেকচি গায়েবের ঘটনায় তিনি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন।
মাজারের ডেকচি নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখেন। চলতি বছরের ২৫শে জুন ওয়াকফ এস্টেটের পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষর করা তালিকা অনুযায়ী ২০টি বড় ও ১২টি ছোট, মোট ৩২টি ডেকচি বর্তমান কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসক মাজারে উপস্থিত হয়ে নিজে গুণে দেখেছেন যে, সেই ৩২টি ডেকচিই বর্তমানে সেখানে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্নভাবে মাজারের সম্পদ আত্মসাত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আবু তাহের নামের যে মোতোয়াল্লি মাজারের দায়িত্ব নেন, তিনিও আওয়ামী লীগের লোক ছিলেন।
তিনি জানান, আগের কমিটির নিযুক্ত মোতোয়াল্লি আবু তাহেরের কার্যক্রম স্থগিত করে চলতি বছরের ১৩ জুন তিন বছরের জন্য পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা এবং ১৩ সদস্যের পরিচালনা কমিটির অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়। ওই কমিটিতে পদাধিকারবলে চসিকের প্রশাসক হিসেবে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।
তিনি বলেন, আগের কমিটির নিয়োজিত মোতোয়াল্লি বর্তমান কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এ কারণে চট্টগ্রাম ওয়াক্ফ এস্টেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান কমিটি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২৫শে জুন মাজারে রক্ষিত ২০টি বড় ও ১২টি ছোট ডেকচিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের হিসাব তৈরি করা হয় এবং সেই হিসাবপত্রে ওয়াক্ফ এস্টেটের পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষরও রয়েছে।
মাজার পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের ওয়াকফ পরিদর্শক মো. শাখাওয়াত হোসেন, মাজার পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি গোলাম সরওয়ার, কমিটির সদস্য আবদুল হালিম স্বপন, ফারুক শিকদার, মো. রুবেল, আবদুল মান্নান, ইদ্রিস আলী, হিসাব রক্ষক আনিসুর রহমান, নবী হোসেন, রায়হান আলম, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন