প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তার ওপরেই আস্থা রেখেছেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শের অদম্য সৈনিক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুলের সুনাম রয়েছে কয়েক দশক ধরে।
সংগ্রাম, লড়াই এবং অধিকারের প্রশ্নে তিনি অনড় অবস্থান নিয়েছেন, যা কখনও কখনও বিচলিত করেছে, আবার কখনও বন্দিদশা, এবং কখনও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড় করিয়েছে। তবে তিনি থামেননি তার পথচলায়। তিনি পিছু হটেননি গণতন্ত্র এবং জনতার অধিকার আদায়ের জন্য। দীর্ঘ ৪ দশকের বেশি সময় এই রাজনীতিক দেশের প্রশ্নে নিজেকে আপসহীনভাবে উজাড় করেছেন, তিনি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
উত্তর জনপদ ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা পরিবারের সন্তান ফখরুল ইসলাম শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতির বন্ধুর পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি নিজেকে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সঁপে দিয়েছেন। আশির দশকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অদম্য প্রতিবাদী ফখরুল ৯০-এর আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর মূলধারার রাজনীতিতে তিনি পৌঁছেছেন এবং গ্রাম ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে গিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম, যিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন সময়গুলি হাল ধরেছিলেন বিএনপির। ২০১১ সালে BNP মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব তার কাঁধে ওঠে। ২০১৬ সালে তিনি ভারমুক্ত হয়ে পূর্ণ মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মধ্যে ফ্যাসিস্ট সরকারের একদলীয় শাসন এবং একতরফা নির্বাচন রাজনীতির কঠিন সমীকরণে দাঁড় করায় বিএনপিকে, যেখানে কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্বাসনকালেও তিনি দলকে সাংগঠনিকভাবে আগলে রেখেছিলেন।
নিজেও ১১ বার কারাবরণ করেছেন এবং নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন অসংখ্যবার। তবে তিনি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং রাজনীতিকদের শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে বারবার ফিরে আসেন নেতৃত্বের পাদপ্রদীপে।
দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগতে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি অবস্থায় থেকে শেষ বিদায় পর্যন্ত তিনি দলীয় আনুগত্য মেনে কাজ করে গেছেন। দেশের এবং দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি বুক চিতিয়ে সামনে থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিরোধ গড়েছেন।
গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের স্বপ্নে বিভোর এই রাজনীতিবিদ স্বৈরাচার শাসনামলে শত নির্যাতনের মাঝেও তৃণমূল থেকে সিনিয়র নেতাদের উদ্বুদ্ধ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করে গেছেন। তিনি বার্তা দিয়েছেন সংগ্রামে।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনে কৌশলী পদক্ষেপ এবং সাংবিধানিক সংকট থেকে দেশ রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৬-এর ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি এলজিআরডি মন্ত্রী হন।
রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে অবশেষে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হতে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই গুণীজন এবার দেশের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। খুব শিগগিরই বঙ্গভবনের ২৩তম বাসিন্দা হয়ে দেশকে নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ করার নতুন যাত্রায় সামিল হতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, আগামী ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবে জাতি।
গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ছিল ১৩ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট।
এর আগে গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন