প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি নজিরবিহীন মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যিনি একজন প্রবীণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট, এবং স্টিভ ব্যানন, যিনি ডানপন্থী 'মেগা (MAGA)' আন্দোলনের মূল কারিগর, উভয়েই টেক বিলিয়নেয়ারদের তীব্র সমালোচনা করে এআই-এর ওপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে অলাভজনক সংস্থা 'ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউট' দ্বারা আয়োজিত 'প্রো-হিউম্যান অ্যাসেম্বলি' সম্মেলনে এই দুই বিপরীতমুখী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এক মঞ্চে বক্তব্য প্রদান করেন। উভয় নেতা সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে টেক জায়ান্টগুলোর একচেটিয়া প্রভাবের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা যখন খাদের দিকে এগিয়ে যাই, তখন ব্রেকে চাপ দিতে হয়। আমরা বিশ্ব ইতিহাসের এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অভূতপূর্ব মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি।" তিনি এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ বন্ধে একটি বিল উপস্থাপন করেছেন এবং সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই নিষিদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক চুক্তির তাগিদ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্টিভ ব্যানন কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, "আমেরিকান জনগণ আর এই টেক অলিগার্কদের করুণার পাত্র হয়ে থাকবে না।" তিনি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে এই সংকটের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে তাদের এক হতে হয়েছে।
সম্মেলনে খ্রিস্টান ও ধর্মীয় নেতা, লেখক, প্রযুক্তিবিদ এবং ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ আমেরিকান ভয় পাচ্ছেন এআই মানব সম্পর্ককে দুর্বল করে দেবে, এবং ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধী।
আইনপ্রণেতারা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এআই-এর ওপর স্পষ্ট নীতিমালা জারি করা জরুরি, কারণ এই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্ষতি হবে সমগ্র মানবজাতির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন