প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সরকার এবার দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে। পূর্বে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার এই সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনজন শিক্ষক এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্মাননার জন্য নির্বাচিত তিন শিক্ষক হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. ইব্রাহীম হোসেন মণ্ডল এবং ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছাদিক।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একই সঙ্গে তিনজন শিক্ষক এ ধরনের সম্মাননা পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক দেশের পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন গবেষক ও শিক্ষক। শিক্ষকতা ও গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি এর আগেও বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন।
জানা গেছে, প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গুণী শিক্ষকদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের এ সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, এবার গুণী শিক্ষক সম্মাননার পরিধি ও আওতা বাড়ানো হয়েছে। পূর্বে প্রতিবছর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো। এবার এই সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায় পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষকদের এ সম্মাননার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষকরা আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হবেন।
রাবি থেকে এবার তিনজন শিক্ষক গুণী শিক্ষক সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তিন শিক্ষককে নিয়ে গর্বিত। তারা শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো গবেষক হিসেবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছেন। গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গবেষকদেরও আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
গুণী শিক্ষক নির্বাচনের যোগ্যতার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, এখানে শুধু গবেষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। একজন শিক্ষক সমাজে কী ধরনের অবদান রাখছেন, তার নেতৃত্বের গুণাবলি কেমন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সুনাম কেমন এবং তার গবেষণার সাইটেশন কত—এসবসহ প্রায় ১০ থেকে ১২টি মানদণ্ড বিবেচনা করে গুণী শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। তাই যারা এই সম্মাননা পাচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক গুণী শিক্ষক সম্মাননা পাওয়ার মতো যোগ্যতা ও সম্ভাবনা রাখেন, তাদের বিষয়ে যথাযথভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক শিক্ষক এ ধরনের সম্মাননা পাওয়ার যোগ্যতা রাখেন।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ অক্টোবর ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১০০ জন গুণী শিক্ষকের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন