প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক কেজি গরুর মাংসের মূল্য ৭৫০ টাকা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর একটি লাউচাষিকে এই মাংস ক্রয়ের জন্য অন্তত তিন হাজার লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে। উৎপাদন খরচের চাপের কারণে অনেক কৃষক তাদের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। কিছু কৃষক গাছ কেটে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ লাউ গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, মাঠে তারা লাউয়ের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বাজারে প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ, সার-কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি মেটাতে না পেরে তারা লোকসান ভোগ করছেন।
আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তার খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু তিনি সব মিলিয়ে লাউ বিক্রি করে মাত্র তিন হাজার টাকা পেয়েছেন। তিনি জানান, এই টাকা দিয়ে শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না।
দুলাল ইসলাম বলেন, ‘ভাবতে পারেন, আমরা কৃষকরা লাউ আবাদ করে কতটা লোকসানে আছি। দুই থেকে তিন হাজার পিস লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনা যায় না। তাই মনের কষ্টে বাগান কেটে ফেলেছি। লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছি। আমরা কৃষকরা দাম না পেলেও বাজারে ঠিকই প্রতি পিস লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার লাউচাষি আনসারুল ইসলাম জানান, তিনি ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানে কোনো পরিচর্যা করছেন না। সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ছে। শ্রমিকের মজুরি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। অথচ এবারে লাউয়ের সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন প্রতি পিস পাঁচ টাকা। এ দামে উৎপাদন খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এভাবে কষ্টের ফসলের দাম না পেলে মানুষ কৃষি ছেড়ে দেবে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সলেমান আলী মন্তব্য করেন, এবারে লাউয়ের আবাদ ও ফলন দুটিই ভালো হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা দাম পাচ্ছেন না। বাইরের বাজারেও লাউয়ের ভালো দাম নেই।
এ বিষয়ে জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন