প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভরা মৌসুমেও বরিশালে ইলিশের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আড়তগুলোতে সরবরাহের চরম ঘাটতির কারণে বাজারে ইলিশের দাম এখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে জাটকা শিকার এবং প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমের সময় পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ইলিশে জমজমাট থাকার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এখন সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। উচ্চ দামের কারণে ইলিশ কিনতে আসা অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতা খালি হাতে ফিরছেন।
রোববার (১৪ জুন) পোর্ট রোড মৎস্য মোকামে গিয়ে দেখা গেছে, সরবরাহ সংকটের সমাধানের অভাবে পাইকারি বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাঝারি আকারের ইলিশের দাম ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় রয়েছে।
মাছ কিনতে আসা নগরীর কাউনিয়া এলাকার রাজু আহমেদ বলেন, "ইলিশের ভরা মৌসুমে বরিশালের বাজারে এসে যদি শুনতে হয় এক কেজি মাছের দাম আড়াই হাজার টাকা, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ইলিশ খাওয়ার স্বপ্ন বাদ দিতে হবে।"
বাংলাবাজার এলাকার রুহুল নামের আরেক ক্রেতা জানান, "পারিবারিক ব্যবহারের জন্য একটি ইলিশ কিনতে বাজারে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে ছোট সাইজের মাছ কেনার সামর্থ্যও হচ্ছে না। ইলিশ এখন শুধুমাত্র ধনীদের খাবারে পরিণত হয়েছে।"
অন্যদিকে নদীতে মাছ শিকার করা জেলে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, "আগের বছরের তুলনায় এবার নদী প্রায় মাছশূন্য। দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও ইলিশসহ কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।"
জহির মৎস্য ভাণ্ডারের মালিক জহির সিকদার জানান, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরিশালের বিভিন্ন নদ-নদীতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু জেলেরা অবাধে জাটকা শিকার করেছে। তার প্রভাব এখন পুরো বাজারে স্পষ্ট।
পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সদস্য সচিব কামাল সিকদার বলেন, "ভরা মৌসুমেও প্রতিদিন মাত্র ৩০ থেকে ৩৮ মণ ইলিশ মোকামে আসছে। আড়তগুলোতে মাছের সরবরাহ এত কম যে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।"
তবে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ বলছে, এই সংকটের পেছনে মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক উভয় ধরনের কারণই কাজ করছে। মৎস্য অধিদফতর বরিশালের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা সংকট এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে ইলিশের স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ কমে গেছে। এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট কারণও দায়ী।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন