প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অ্যাসারুল শেখ আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে কেরালা থেকে তার বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার একটি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে। মুর্শিদাবাদের এই প্রবাসী শ্রমিককে বাংলাদেশি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয় এবং ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালগোলা বন্দিশিবিরে (ডিটেনশন সেন্টার) নিয়ে যাওয়া হয়—এমনটাই জানিয়েছেন অ্যাসারুলের ভাইঝি রোজিনা খাতুন।
ভারতীয় গণমাধ্যম স্ক্রোল-এর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, জুন মাস থেকে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অন্তত ৯ জন মুসলিম পুরুষ এবং ২ জন শিশুকে আটক করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি হওয়ার অভিযোগ এনেছে।
পুলিশ কিসের ভিত্তিতে এসব লোকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে তার কোনো কারণ জানায়নি। এমনকি কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ বা এফআইআরও দায়ের করেনি। কথিত এই অবৈধ বিদেশিদের পুলিশি অভিযোগের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা কিংবা নাগরিকত্ব প্রমাণের কোনো সুযোগও দেওয়া হয়নি।
"অ্যাসারুলকে আটক করার ২০ দিনেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, কিন্তু পুলিশ আমাদের এমন কোনো নথি বা নোটিশ দেয়নি যেখানে তাকে বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে," স্ক্রোলকে বলেন রোজিনা।
অ্যাসারুলের ভাইঝি আরও জানান, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটার হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং তিনি সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। "কিন্তু তারা আমাদের নথিপত্র দেখতেই অস্বীকৃতি জানায়," বলেন তিনি। জুন মাস থেকে আটক হওয়া আরও চারজন ব্যক্তির নামও একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছিল।
শনাক্ত, নাম বাতিল এবং বহিষ্কার
মে মাসে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরপরই, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কথিত অবৈধ অভিবাসীদের রাখার জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা বন্দিশিবির গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়। এটি তাদের "শনাক্ত, নাম বাতিল এবং বহিষ্কার" নীতির একটি অংশ।
এই নীতি প্রতিবেশী রাজ্য আসামের নাগরিকত্ব নির্ধারণ ব্যবস্থার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা প্রায়শই স্বেচ্ছাচারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচিত হয়ে আসছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, গবেষক ও আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যবহৃত ‘বিদেশি শনাক্তকরণ পদ্ধতি’ আসামের চেয়েও বেশি নির্মম ও কঠোর। কারণ এটি কোনো প্রকার বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার সুযোগ না রেখে পুলিশ ও প্রশাসনের হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা তুলে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সংঞ্জয় হেগড়ে বলেন, বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) এই প্রক্রিয়া পুলিশকে একাধারে নাগরিকত্বের বিচারক, জুরি এবং জল্লাদ হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, "এই প্রক্রিয়ায় শনাক্তকরণ বা বহিষ্কারের বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য কোনো বিচারবিভাগীয় বা আধা-বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের অস্তিত্বই রাখা হয়নি।"
আসামে অন্তত অভিযুক্তদের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’-এ হাজির করে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’-এর অধীনে তাদের নাগরিকত্ব বিচার করা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে পুলিশ যাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের সরাসরি সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথবা মাসের পর মাস বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল হলো আসামের একটি বিশেষ আধা-বিচারবিভাগীয় সংস্থা যা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করে। হেগড়ে বলেন, ‘কমপক্ষে আসামে তো লোকজনকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হতো, সেখানে আইনি প্রক্রিয়ার একটি ন্যূনতম নিয়ম মেনে চলার নামমাত্র উপস্থিতি ছিল।’
তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তালহা আব্দুল রহমান একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল পরিস্থিতিকে অনেক ভালো করে তোলে। কারণ আমার মতে, ট্রাইব্যুনালগুলো নিজেরাও এক ধরণের প্রহসনের আদালত (ক্যাঙ্গারু কোর্ট) এবং সেগুলো আইনি প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে ব্যর্থ।’
সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘনের এই অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে (ডিজিপি) ইমেইল করেছিল স্ক্রোল। তার কোনো উত্তর পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হবে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।
মে ২০২৫-এর নির্দেশিকা
স্ক্রোল-এর পর্যালোচনা করা ৯টি বিষয়ের মধ্যে অন্তত একটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কোনো এক ব্যক্তিকে আটক করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২ মে, ২০২৫-এ জারি করা একটি আদেশকে হাতিয়ার করেছে। ওই আদেশে দেশের সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের 'হোল্ডিং সেন্টারে' আটকে রাখে। সেখানে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি করা নিজ রাজ্য ও জেলার কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিনের মধ্যে তার নাগরিকত্ব যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি তারা এক মাসের মধ্যে যাচাই করতে ব্যর্থ হয়, তবে অভিযুক্তকে ফেরত বা বহিষ্কার করা যাবে।
কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর গত বছর এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করা হয়।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পুলিশ গত বছর এই আদেশ প্রয়োগ করে বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছিল। স্ক্রোল-এর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে যেমনটা জানা গিয়েছিল, বহু ক্ষেত্রে পুলিশ শ্রমিকদের নিজ জেলা থেকে যাচাইকরণ প্রতিবেদন আসার জন্য অপেক্ষাও করেনি, তার আগেই তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ মেনে না চললেও, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই লোকজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটক করতে শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথম যেসব ব্যক্তিদের ওপর এই মে ২০২৫-এর আদেশ জারি করেছিল, তাদের একজন হলেন মুর্শিদাবাদ জেলার নাসির মোল্লা। ১৮ জুন বিকেলে মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি থানা থেকে পুলিশ কর্মীরা তার গ্রাম দয়ারামপুরের বাড়িতে এসে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
সম্প্রতি সমাপ্ত এসআইআর-এ নাসির মোল্লার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তবে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তার আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। তার ভাই সুমন মোল্লা এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু হাইকোর্ট নাসিরকে লালগোলা বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আদালত যুক্তি দেয় যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫-এর অধীনে নাসির তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মোল্লার আইনজীবী মোকারম হোসেন স্ক্রোল-কে বলেন যে, তারা হাইকোর্টের এই আদেশকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ‘পুলিশ কীভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাল যে তিনি একজন বিদেশি?’ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘প্রমাণ কোথায়? এটি তো এমন কোনো বিষয় নয় যে তাকে সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে ঢোকার সময় ধরা হয়েছে। তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ পরিবারের দাবি, নাসির মোল্লা জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং ১৯৫০-এর দশক থেকে তাদের পরিবারের জমির রেকর্ড রয়েছে।
আইনজীবী হোসেন ২০২৪ সালের ‘রহিম আলী’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে—কাউকে বিদেশি বলে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সেই অভিযোগ আনা হয়েছে, প্রাকৃতিক বিচারের নিয়ম অনুযায়ী তা ওই ব্যক্তির সাথে ভাগ করে নিতে হবে। আইনজীবী হোসেন বলেন, ‘মোল্লা বা তার পরিবারকে এ জাতীয় কোনো নথিপত্র দেওয়া হয়নি।’
এমনই এক আটকের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ মুর্শিদাবাদ থেকে ৩৯ বছর বয়সী শাহিদুল শেখকে তার বাড়ি থেকে কেন তুলে নেওয়া হলো—তা ব্যাখ্যা করে পুলিশকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আদালত পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দিয়েছে, শেখকে আটক করার পর থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্য কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে রিপোর্ট দাখিল করতে। বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে বহু হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছে। আপনি কি সবার বিরুদ্ধে এভাবে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করবেন? এবং এভাবে? মানবাধিকার লঙ্ঘন করে?’
চ্যালেঞ্জের মুখে আদেশের বৈধতা
আইন বিশেষজ্ঞরা আরও নির্দেশ করেছেন যে, মে ২০২৫-এর এই নির্দেশিকাটি নিজেই সংবিধান প্রদত্ত বেশ কয়েকটি সুরক্ষাকবচ লঙ্ঘন করে। সম্প্রতি এই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন এক বাংলাভাষী মুসলিম নারীর ছেলে, যাকে মুম্বাই পুলিশ আটক করে এই বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল।
এই আদেশে অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার বিষয়ে কোনো কথা বলা হয়নি। এমনকি এটি আগের সেই পদ্ধতিকেও ছেঁটে ফেলেছে, যার মাধ্যমে পুলিশ সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের জাতীয়তা সম্পর্কিত তথ্য সংশ্লিষ্ট হাই কমিশনের সাথে যাচাই করতে বাধ্য থাকত।
গৌহাটি হাইকোর্টে বেশ কয়েকটি নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার পক্ষে লড়াই করা আইনজীবী দীপেশ আগরওয়ালা তুলে ধরেন যে—এমনকি কথিত বিদেশি নাগরিকরাও সংবিধানের ২১ ও ২২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য এবং হেফাজতে নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতেই হবে। সুপ্রিম কোর্টের আইন জীবী রহমান বলেন, এই বিজ্ঞপ্তিতে যে এসওপি দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী ও অবৈধ।
‘এই এসওপি আসলে বিচারহীনভাবে মানুষকে গায়েব বা গুম করার শামিল,’ স্ক্রোলকে বলেন রহমান। ‘পুলিশ কর্মকর্তার ইচ্ছা এবং তিনি কাকে বিদেশি বলে মনে করছেন—তার ওপর ভিত্তি করেই লোকজনকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। 'অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশি বা মিয়ানমারের নাগরিকদের' কীভাবে শনাক্ত করা হবে সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার জায়গায় ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও পক্ষপাতকে জায়গা করে দিচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের আরও এক আইনজীবী প্রসন্ন এস. তুলে ধরেন এক মৌলিক বৈপরীত্যের কথা। তিনি জানান—‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মে মাসের আদেশের মধ্যে মারাত্মক অমিল রয়েছে, যা ব্যবহার করে পুলিশ এই সংক্ষিপ্ত আটক ও জোরপূর্বক বিতাড়ন চালাচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশিকাটি এমন একটি সংবিধিবদ্ধ কাঠামোর অধীনে জারি করা হয়েছিল যা চার মাস পর ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ এবং ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অর্ডার, ২০২৫’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত বা বাতিল হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘একটি প্রশাসনিক এসওপি কখনো কোনো সংবিধিবদ্ধ আইনে থাকা আইনি সুরক্ষাকে লঙ্ঘন বা বাতিল করতে পারে না। ফলে এই আইনি কাঠামোর বিচারে আদেশের নীতিটি বিচারসাপেক্ষে বাতিলযোগ্য।’ প্রসন্ন এস. শাহিন ফকিরের পক্ষে মামলা লড়ছেন, যিনি গত জুন মাসে তার মাকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার পর অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের বিতাড়ন সংক্রান্ত মে ২০২৫-এর এসওপির আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
‘সংবিধানের পরিপন্থী’
অভিযুক্ত ব্যক্তি যে এলাকার বাসিন্দা, সেখানকার জেলা সংগ্রাহকের (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী রহমান। কোনো কারণে ৩০ দিনের মধ্যে যদি এই প্রতিবেদন না পাওয়া যায়, তবে বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ‘ফরেনার্স রিজিনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’কে (এফআরআরও) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লোকটিকে তাড়িয়ে দিতে।
‘‘এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। রাজ্যের ব্যর্থতার কারণে একজন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে অন্য একটি দেশে ‘ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, যে দেশের সাথে তার কোনো সম্পর্কই নেই,’’ তিনি বলেন। গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী আগরওয়ালা উল্লেখ করেন, পুলিশ যদি মে ২০২৫-এর নির্দেশিকা অনুসরণও করে, তবুও এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর অধীনে হতে হবে।
‘শুধুমাত্র অবৈধ অভিবাসী হওয়ার সন্দেহে কাউকেই তাড়িয়ে দেওয়া যায় না,’ তিনি বলেন। ‘আইন অনুযায়ী যেকোনো বিতাড়নের আগে জাতীয়তা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। পুলিশ একই সাথে বিচারক ও জল্লাদ হতে পারে না। এটি আমাদের সাংবিধানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন