প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাধবদীর ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যবসায় মন্দা, ক্রেতাসংকট ও বিভিন্ন খরচের চাপে ইতিমধ্যেই দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস লিমিটেডের মালিকানাধীন মার্কেটের দোকানভাড়া এক লাফে চার গুণ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধির ফলে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, সোনার বাংলা কটন মিলসের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বর্ধিত ভাড়া পরিশোধের জন্য ৭ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্ধিত ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলসের অধীনে মাধবদীতে প্রায় এক হাজার দোকান বা ভিটি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা সেখানে দোকান পরিচালনা করে আসছেন। তবে গত আগস্টে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের পর দোকানভাড়া একলাফে চার গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন ভাড়া কার্যকর হলে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পক্ষে দোকান চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে এবং কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা করছেন।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রিবাট্টা আগের মতো নেই। দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, পণ্য পরিবহন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় একলাফে চার গুণ ভাড়া বাড়ানো হলে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো সম্ভব হবে না।
তাদের প্রশ্ন, ব্যবসার পরিবেশ ও আয়-ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে কিভাবে এত বড় ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? ভাড়া বৃদ্ধির আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা মনে করেন, দোকান ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যৌক্তিক ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। বর্তমান বাজারের অবস্থা, দোকানের আয়তন, অবস্থান এবং ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত। হঠাৎ করে কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এর প্রভাব মার্কেটের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশেও পড়তে পারে। অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী দোকান ছেড়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন। এতে মার্কেটের দোকান খালি পড়ে থাকা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়া এবং ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সোনার বাংলা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মার্কেট কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সহনীয় ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত (১৪২৯-১৪৩২) তার দোকানের ভাড়া ছিল ১০ হাজার টাকা। গত আগস্টে এমপি সাহেব সভাপতি হয়ে চলতি মাসের ১৩ তারিখে এক লাফে সেটি ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন। বর্ধিত ভাড়া ৭ দিনের মধ্যে (পত্রপ্রাপ্তির) না দিতে পারলে দোকান খালি করার ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা ছাড়া তাদের কোনো পথ নেই।
সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলস লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিটি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী গত ১২-১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। ৮টি পদের বিপরীতে ১৪টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হলেও, খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে ৬টি মনোনয়ন দাখিল হয়। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী দাখিলকৃতদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে খায়রুল কবির খোকন সভাপতি নির্বাচিত হন।
সোনার বাংলা সমবায় কটন মিলসের সভাপতি খায়রুল কবির খোকন নোটিশে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমিতির দোকান ভাড়া নির্ধারণের নিমিত্তে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির গত ১৩ সেপ্টেম্বরের সভায় দোকান সঠিকতা যাচাই বাছাই করার জন্য ৫ সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপকমিটির তদন্ত প্রতিবেদন, সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের নির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দোকান ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি কারো একক সিদ্ধান্ত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন