প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশকে ইউরোপের বাজারে রফতানি ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে, যা শুধুমাত্র শুল্কমুক্ত সুবিধার ওপর নির্ভরশীল নয়। এলডিসি উত্তরণের জন্য অতিরিক্ত তিন বছর এ প্রস্তুতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, আমদানিনির্ভরতা এবং রফতানিতে তৈরি পোশাকের একক আধিপত্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে এখনই জোর দেওয়ার তাগিদ রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পণ্য রফতানির ৪৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বাজারে রফতানির পরিমাণ ২০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার হবে, যার প্রায় ৯২ শতাংশ তৈরি পোশাক খাতের।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক একীভূতকরণ এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ শীর্ষক আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেন, ইইউর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বাজার নিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তবে এফটিএর পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তির উন্নয়ন, শ্রমমান এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির মন্তব্য করেন, ‘আমরা এখন চামড়াসহ অনেক পণ্য রফতানি করছি। ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে অনেক সুযোগ রয়েছে। তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব খাতে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আইটি খাতেও অনেক সুযোগ রয়েছে। এলডিসি উত্তরণ পেছানোর কারণে এফটিএ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ।’
আলোচকরা জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রফতানি বাজার ধরে রাখতে কার্যকর বাণিজ্য কৌশল এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য পাওয়া বাড়তি তিন বছর নিজেদের প্রস্তুত করার সময়। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সংস্কারের মাধ্যমে রফতানি খাতকে টেকসই করতে না পারলে জিএসপি প্লাস সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দরকষাকষিও বাড়াতে হবে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। ভূরাজনৈতিক বিভক্তি ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে যাবে, তা এখনই বলা কঠিন। দেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৫৭ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রফতানি ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভর করে। বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রফতানি বাজারে শুল্ক বা বাণিজ্য বাধা তৈরি হলে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
আলোচকরা আরও বলেন, ইবিএর আওতায় ইউরোপীয় বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এফটিএ দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, সেবা খাতের সম্প্রসারণ এবং ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা দিতে পারে এ চুক্তি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন