প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বখ্যাত মার্কিন পপতারকা টেইলর সুইফট এবং আমেরিকান ফুটবলার ট্রাভিস কেলসির জমকালো বিয়ের খবরকে কেন্দ্র করে যখন পুরো দুনিয়ায় আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত রসিকতায় মেতে উঠেছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস। সুইফটের জনপ্রিয় গান ও ব্র্যান্ডিংয়ের আদলে তৈরি বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনাকে নিজেদের প্রতি ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
গত শুক্রবার নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। বিয়ের ভেন্যুর বাইরে ভক্তদের ভিড়ের মধ্যে সাড়ে ৭টার দিকে একটি বড় ইলেকট্রনিক বিলবোর্ড জ্বলে ওঠে, যেখানে নবদম্পতির নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে লেখা হয়েছিল ‘JUST&T MARRIED’। এ ধরনের বিলবোর্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অফিশিয়াল হোয়াইট হাউস অ্যাকাউন্ট থেকে ঠিক একই ধরণের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর বদলে লেখা ছিল, ‘ট্রাম্পই এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট’, এবং ক্যাপশনে যুক্ত করা হয়েছিল, ‘অবশেষে এটি ঘটল!’
টেইলর সুইফটের বিয়েকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের এ ধরনের খোঁচা অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে বৃহস্পতিবার, এই তারকাযুগলের বিয়ের পূর্ববর্তী বিশেষ নৈশভোজ বা রিহার্সাল ডিনারের সময় হোয়াইট হাউস থেকে সুইফটের বিখ্যাত ‘ইরাস ট্যুর’ পোস্টারের আদলে একটি গ্রাফিক্স শেয়ার করা হয়। আমেরিকার ইতিহাস ও ট্রাম্পের বিভিন্ন মুহূর্তের কোলাজ দিয়ে তৈরি ওই পোস্টারটির নাম রাখা হয়েছিল ‘আমেরিকার ইরাস ট্যুর’। সেখানে ক্যাপশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে সুইফটের ২০১৯ সালের জনপ্রিয় গান ‘মিস আমেরিকানা অ্যান্ড দ্য হার্টব্রেক প্রিন্স’-এর একটি লাইন— ‘এটি হতে অনেক সময় লেগেছে।’ পরে শুক্রবার সকাল এবং সন্ধ্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সাবেক প্রেসিডেন্টদের ফুটেজ-সংবলিত আরও দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়, যার ক্যাপশনে ছিল সুইফটের গানের রেফারেন্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেইলর সুইফটের মধ্যে এই বৈরী সম্পর্ক অত্যন্ত পুরনো। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টেইলর সুইফট প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিসকে সমর্থন দেওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি লিখেছিলেন, ‘আমি টেইলর সুইফটকে ঘৃণা করি।’ অন্যদিকে, সুইফটও ২০২০ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ ছড়ানোর অভিযোগ এনে দেশবাসীর কাছে তার বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এক কাকতালীয় ঘটনার মাধ্যমে, চলতি সপ্তাহে একদিকে যখন টেইলর সুইফট তার বিয়ের রাজকীয় উদযাপন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন, ঠিক একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন