প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান সমৃদ্ধ বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। সুতরাং, এ ঘটনায় ব্যাখ্যা দিতে ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে তলব করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
ভারত সরকারের কর্তৃপক্ষ জানতে চায়, কীভাবে এ ধরনের বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারের জন্য অনুমতি পেয়েছে এবং এমন অবৈধ উপাদান বন্ধে মেটা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
বিবিসির একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত উপাদান বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, সেখানে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামযুক্ত কিছু বিজ্ঞাপন দেখা গেছে, যেখানে ‘ধর্ষণ ভিডিও’ এবং ‘শিশু ভিডিও’–এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, এ সমস্ত বিজ্ঞাপনের সংযোগ ছিল বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গে, যেখানে মাত্র ৯৯ রুপিতে এ ধরনের উপাদান কেনার সুবিধা ছিল।
বিবিসি বিষয়টি জানানোর ২৪ ঘণ্টা পরে ইনস্টাগ্রাম দাবি করেছে যে, সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলো তাদের সম্প্রদায়গত নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি। কিন্তু, পরবর্তীতে মেটা বিবিসিকে জানায়, তারা এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন নিষ্ক্রিয় করেছে, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলো স্থগিত করেছে এবং নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ইন্টারনেট ঠিকানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপেরও মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বরের পরিবর্তে ব্যবহারকারীর নাম ব্যবহারের সুবিধা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে মেটাকে নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে, তিন দিনের মধ্যে এ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়।
সরকারের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি এ সুবিধাটি চালু γίνεται, তাহলে প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষকে সহজেই ফাঁদে ফেলে বার্তা পাঠাতে সক্ষম হতে পারে। এর ফলস্বরূপ অনলাইন জালিয়াতি, তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রতারণা, ডিজিটাল গ্রেফতারের নামে প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
নোটিশে বলা হয় যে, এই সুবিধা ব্যবহার করে প্রকৃত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভুয়া ব্যবহারকারীর নাম তৈরি করা সম্ভব। এইভাবে সাধারণ মানুষ, সরকারি কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার পরিচয় ভুয়া পরিচয়ে ব্যবহার করে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেটার পাশাপাশি একই ধরনের নোটিশ টেলিগ্রাম এবং সিগন্যাল অ্যাপকেও পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন