প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত কয়েক বছর ধরে চলা তীব্র সমালোচনা, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং রণকৌশলগত দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও, মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ককে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব ফ্রিডম’-এ ভূষিত করেছেন। রাশিয়া কর্তৃক স্টারলিংক স্যাটেলাইট প্রযুক্তির অবৈধ ব্যবহার বন্ধে কিয়েভের সাথে স্পেসএক্সের কার্যকর পদক্ষেপ এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মাস্ককে এই বিরল সম্মান দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ডিক্রি অনুযায়ী, মানবজীবন রক্ষা, স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং ইউক্রেন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসামান্য ব্যক্তিগত অবদানের জন্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রের এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করা হয়েছে।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইলন মাস্কের স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনায় স্টারলিংক প্রযুক্তি কিয়েভের বাহিনীর প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী অবৈধ উপায়ে এই টার্মিনালগুলো সংগ্রহ করে তাদের আক্রমণাত্মক ড্রোনে ব্যবহার শুরু করলে সংঘাত নতুন রূপ নেয়। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ প্রতিরোধে কিয়েভ সরাসরি স্পেসএক্সের সাথে যোগাযোগ করে এবং উভয় পক্ষের প্রকৌশলীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবৈধ অ্যাক্সেস বন্ধ করা সম্ভব হয়।
প্রাথমিক দিনগুলোতে ইউক্রেনকে স্টারলিংক দিয়ে সহায়তা করার পর, মাস্কের সাথে কিয়েভের সামরিক অভিযানের পরিধি নিয়ে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়। মাস্ক প্রকাশ্যে যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে স্টারলিংক কেবল সাধারণ যোগাযোগের জন্য তৈরি, এটি বড় ধরনের সামরিক হামলা এবং যুদ্ধ বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। পূর্বে অভিযোগ ওঠে, ২০২২ সালের ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণের সময় এবং ক্রিমিয়ার কাছে কৃষ্ণসাগরীয় বহরে আক্রমণের সময় মাস্ক ইচ্ছে করেই স্টারলিংক সেবা বন্ধ রেখেছিলেন, যা কিয়েভকে চরম বিপাকে ফেলেছিল।
এই বিরোধ কেবল সামরিক কৌশলে সীমাবদ্ধ থাকেনি, রাজনৈতিক ময়দানেও গড়ায়। ইলন মাস্ক ইউক্রেনকে দেওয়া পশ্চিমা সামরিক সহায়তার কার্যকারিতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন এবং দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ সমাধানের পরামর্শ দেন। এমনকি তিনি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেন এবং ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকা সত্ত্বেও জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় এসে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ ও নির্বাচনের জন্য কিয়েভের ওপর চাপ তৈরি করলে মাস্কের এই সুর আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাফোড়েন সত্ত্বেও, ইউক্রেনের সামরিক বাস্তবতায় স্টারলিংকের বিকল্প এখনো অনুপস্থিত। বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের ড্রোন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করতে এবং রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে গিয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারে আঘাত হানতে মাস্কের অনুমোদন চাইছে। তবে ইলন মাস্ক এখন পর্যন্ত এই অনুরোধে সাড়া দেননি।
সূত্র: ইউরো নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন