প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তের গ্রামবাসীরা ভারতীয় বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বাঘের আক্রমণের ফলে তিনজন, একজন নারীসহ, আহত হয়েছেন। বাঘটিকে খুঁজে বের করার জন্য স্থানীয়রা টর্চলাইট হাতে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। বিজিবি মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করেছে; ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চলছে। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য বিজিবি ও বন বিভাগ কাজ করছে। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ আতঙ্কিত রয়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় রবিবার বিকালে বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফা বেগম হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরো দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ১৫ বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে বাঘটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করতে এলাকায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরাও সেখানে পৌঁছে বাঘটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন।
ড্রোন ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করা হবে। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমাতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম।
বাঘটির অবস্থান শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। স্থানীয়রা আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফা বেগমের অভিভাবক মমিনা বেগম জানান, শরীফা তার ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। পরে বাদামবাড়িতে গিয়ে ধানক্ষেতে কিছু একটা নড়তে দেখেন। কাছে গিয়ে দেখা যায় একটি বাঘ ছাগলটিকে মেরে ফেলে রেখেছে। পরে পাশেই বাঁশ কাটতে যাওয়া তার ভাসুরসহ দুজন ছাগলের কাছে গেলে বাঘটি হঠাৎ তাদের উপর আক্রমণ করে।
বাঘটি সীমান্তবর্তী জঙ্গলে বা কৃষিজমিতে লুকিয়ে রয়েছে। বন বিভাগ, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাঘের আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্ত গ্রামের অধিবাসীরা অনেকেই মাঠে কাজ করা বা নদীতে নামতে দ্বিধায় পড়ছেন।
বকুল মিয়া নামে একজন বলেন, বাঘ আতঙ্কে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় চাষাবাদ, ছোট খাল-নদীগুলোতে মাছ ধরা এবং পারাপারে তারা এখন ভয় পাচ্ছেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাঘটিকে উদ্ধারের দাবি জানান।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে আহতরা হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন