প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। এ সময় ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৩৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মানে হলো, নগরীর বায়ুদূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাঙ্কিংয়ে এ চিত্র উঠে এসেছে। ওই সময় ভারতের কলকাতা শহরটি বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, যার একিউআই স্কোর ছিল ১৯৮। তৃতীয় অবস্থানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের স্কোর ছিল ১৯১ এবং চতুর্থ স্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ছিল ১৮৬। পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার স্কোর ছিল ১৬২।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাসে প্রধান দূষক হিসেবে সূক্ষ্ম কণাদূষণ বা পিএম২.৫-এর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পিএম২.৫ এত ক্ষুদ্র কণা যে তা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একিউআই এবং দূষণের মাত্রা স্থান ও সময়ভেদে দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
আইকিউএয়ারের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, একিউআই শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসের মান ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত হলে তা মাঝারি বা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত একিউআই সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত একিউআই ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ কারণে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার ২৩৪ স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রার মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় থাকার পাশাপাশি ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ঢাকার বায়ুদূষণ সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে আরও বেড়ে যায়। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং সড়কের ধুলা, শিল্পকারখানার নিঃসরণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে দূষণ বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়ার স্থবিরতা এবং বাতাসের গতি কম থাকলে দূষিত কণা সহজেই ছড়িয়ে যেতে না পেরে নগরীর বাতাসে জমা হয়। এ কারণে দিনের বিভিন্ন সময়েও ঢাকার একিউআইতে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দূষণ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের চিত্রও পাওয়া যায়। সংস্থাটির লাইভ তথ্য অনুযায়ী, একিউআইয়ের মাত্রা সময়ের সঙ্গে কম-বেশি হচ্ছে এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে দূষণের মাত্রাতেও পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি সময়ের র্যাঙ্কিংকে সারাদিনের গড় বায়ুমানের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা যায় না।
এদিকে, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শহরগুলোর আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালের শীর্ষ পাঁচের চারটিই এশিয়ার এই অঞ্চলের রাজধানী বা বড় শহর—ঢাকা, কলকাতা, কুয়ালালামপুর, দিল্লি এবং জাকার্তা। বায়ুদূষণের আন্তসীমান্ত প্রভাব, নগরায়ণ, যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন এবং আবহাওয়াজনিত কারণে এ অঞ্চলের বড় শহরগুলোতে প্রায়ই দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন