প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীলঙ্কার সংকুচিত বনাঞ্চল এবং হাতির আবাসস্থল ক্ষতির ফলে মানুষ ও হাতির মধ্যে সংঘাত বর্তমানে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গালগামুওয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে বুনো হাতি প্রায়ই লোকালয়ে প্রবেশ করছে। শ্রীলঙ্কান সংস্কৃতি ও পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হলেও, এই অঞ্চলে মানুষ ও হাতি উভয়ই প্রাণঘাতী সংঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের মধ্যে মানুষ-হাতি সংঘাতের জন্য শ্রীলঙ্কা অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর এই প্রাণীগুলোর আক্রমণে শ্রীলঙ্কায় গড়ে ১৩৮ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। অপরদিকে, একই সময়ে খাদ্যের সন্ধানে গ্রামে প্রবেশ করা হাতির মৃত্যুর গড় সংখ্যা ৪০২-এ পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে রেকর্ড ৪৮৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে, যার পেছনে রয়েছে গুলি, বিষক্রিয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা ট্রেন দুর্ঘটনার মতো বিভিন্ন কারণ।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯২০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার ৭০ শতাংশ এলাকা বন দ্বারা আবৃত ছিল, যা বর্তমানে কমে ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশটির আনুমানিক ৭,৪৫১টি বন্য হাতির মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বাইরে বাস করে। বিগত ২০ বছরে গালগামুওয়ার সিয়ামবালাঙ্গামুওয়া জলাধারের চারপাশের জঙ্গল কেটে ফেলার পর থেকেই হাতিগুলো নিয়মিত লোকালয়ে প্রবেশ করছে।
গালগামুওয়ার গালগামুওয়া অঞ্চলের বাসিন্দা ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা দেওয়াগিরি মুদিয়ানসেলাগে থিলাকারত্নে বান্দারা এবং তার স্ত্রী গত ডিসেম্বরে বাড়ির উঠোনে ঢুকে পড়া হাতির আক্রমণের শিকার হন। এই আক্রমণে বান্দারার পা ভেঙে যায় এবং তার স্ত্রীর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। বান্দারা জানান, দুই দশক আগে হাতির আনাগোনা বিরল ছিল, কিন্তু এখন তা দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাতির আক্রমণ এড়াতে স্থানীয়রা তাদের দৈনন্দিন সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছেন। ভোরের ঝুঁকি এড়াতে কাছের স্কুলে পাঠদান আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। শেষকৃত্য ও বিয়ের অনুষ্ঠানও সন্ধ্যার ঝুঁকি এড়াতে তাড়াতাড়ি শেষ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে হাতির গতিবিধির আপডেট রাখেন এবং প্রয়োজনে সংঘবদ্ধ হয়ে পটকা ফুটিয়ে হাতি তাড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগীরা বনাঞ্চল উজাড় বন্ধ করা এবং পুনঃবনায়নের মাধ্যমে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিচ্ছেন। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও বান্দারা মনে করেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলেই এই বন্যপ্রাণীগুলো লোকালয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পশুর প্রতি কোনো ঘৃণা না রেখে বরং বন রক্ষা করা ও সহাবস্থানের পথ খোঁজাই এই সংকটের সমাধান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন