প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুঁইফোড় পোর্টালের অনৈতিক দাবি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরাফাত হোসাইন একটি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি কর্মজীবনে সরকারি ফির বাইরে কারো কাছ থেকে এক টাকা ঘুস নেওয়া বা চাওয়ার প্রমাণ কেউ দিতে পারে, তাহলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেবেন।
রোববার সন্ধ্যায়, মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ পোস্টে এ মন্তব্য করেন। পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে এই কর্মকর্তার প্রতি প্রশংসার ঝড় ওঠে। অনেকেই এই কর্মঠ এবং সৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি অনিবন্ধিত পোর্টালের কিছু ব্যক্তি কমলনগর উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ড মো. আরাফাত হোসাইনের দপ্তরে যান। সেখানে জমিসংক্রান্ত একটি চলমান নামজারি মামলার বাদীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা অনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বড় পরিচয় দিয়ে অনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা চালালে এসিল্যান্ড দৃঢ়তার সঙ্গে এর প্রতিবাদ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক পরিচয়ধারীদের অহংকারী আচরণের জবাবে এসিল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আইনকানুন ও বিধিমালার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। ভিডিওর একপর্যায়ে, অনৈতিক চাপের মুখে সততার আত্মবিশ্বাস থেকে এসিল্যান্ড বলেন, "অফিসে কারো কাছ থেকে আমি টাকা নিয়েছি বা দাবি করেছি—এমন প্রমাণ কেউ করতে পারলে আমি চাকরি ছেড়ে দেব।"
এ বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসাইন তার পরিচালিত ‘এসিল্যান্ড কমলনগর’ (AC LAND Kamalnagar) ফেসবুক আইডিতে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবাকে শতভাগ দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছেন। সরকারি ফির বাইরে কেউ কোনো অবৈধ লেনদেন করেছে কিনা, শুনানিকালে তিনি নিজেই সেবাগ্রহীতাদের কাছে জানতে চান। এই অবস্থায় স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের প্রতিবাদে তিনি এ উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া না মেনে সরকারি দপ্তরে হট্টগোল সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। নামজারি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে বিধি অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন সৎ কর্মকর্তাকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় করার চেষ্টা তীব্র নিন্দনীয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন