প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পঞ্চগড়, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মেঘ সরে যাওয়ার পর পঞ্চগড়ের আকাশে দৃশ্যমান হয়েছে হিমালয়ের তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত তিন দিন ধরে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ। দূরের আকাশে বরফে মোড়া পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য দেখে প্রকৃতিপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ ক্যামেরায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ ছবি ধারণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সেই ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
আজ সকালে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। মেঘমুক্ত নীল আকাশের পটভূমিতে দূরের বরফঢাকা পর্বতশৃঙ্গের শুভ্র চূড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমন পরিষ্কার দৃশ্য পেয়ে অনেকেই নিজেদের উচ্ছ্বাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছেন।
কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার একটি বিখ্যাত পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এবং ভারত ও নেপালের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে খালি চোখেই দেখা যায় এই দূরবর্তী পর্বতশৃঙ্গ।
ভোরের সূর্যের আলো যখন বরফ ঢাকা পর্বতের চূড়ায় পড়ে, তখন কখনো লালচে, কখনো গোলাপি, আবার কখনো ঝকঝকে শুভ্র রূপে ধরা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে প্রতিদিন এই দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়। মেঘ, কুয়াশা, বাতাসের জলীয়বাষ্প এবং দৃশ্যমানতার ওপর নির্ভর করে পর্বতশৃঙ্গটি কতটা স্পষ্ট দেখা যাবে। সাধারণত বর্ষা শেষে আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে নিজেদের মুগ্ধতার কথা তুলে ধরছেন স্থানীয় ফটোগ্রাফার ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
ফটোগ্রাফার ফিরোজ আল সাবাহ নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে কাঞ্চনজঙ্ঘার কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আবার মাউন্ট এভারেস্ট! বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ক্যামেরা দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এর ছবি তুললাম! গল্প-ছবি আসবে একটু পরে! কত নির্ঘুম রাত, কত প্রতীক্ষা! অবশেষে ধরা দিল সাগরমাথা!’
স্কুল শিক্ষক শাওন ইমরান ফেসবুক পোস্টে কাঞ্চনজঙ্ঘার ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে বিদ্যালয় যাই। আজ সম্পূর্ণ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।’
মঈন উদ্দীন নামের একজন ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজকে বাসার সামনে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে প্রতিবছরই পঞ্চগড়ে পর্যটকদের আগ্রহ তৈরি হয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে হিমালয়ের বরফঢাকা শৃঙ্গ দেখার এই সুযোগ স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ভ্রমণপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করে। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
গত দুর্গাপূজার ছুটিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চগড়ে এসেছিলেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে তাদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সে সময় আকাশে মেঘ থাকায় কাঙ্ক্ষিত পর্বতশৃঙ্গের দেখা পাননি অনেকে। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের। বর্তমানে টানা তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান থাকায় প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আনন্দ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় বর্তমানে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের আবহাওয়া আরও এক থেকে দুই দিন থাকতে পারে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবর আকাশে মেঘের সম্ভাবনা রয়েছে। মেঘ তৈরি হলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আবারও আড়ালে চলে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা নাও যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন