প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে বিতর্কিত একটি বেসরকারি সম্পত্তি আইন বাতিলের দাবিতে চলাকালীন বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
খবর উল্লেখিত বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আর্জেন্টিনার সিনেট ভবনের সামনে এই আইনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। রাত নামার সাথে সাথে বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পথে কংগ্রেস স্কয়ারে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও অন্যান্য বস্তু ছুঁড়ে মারলে ব্যবস্থার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জলকামান ও বিভিন্ন ধরনের নিক্ষেপাস্ত্র ব্যবহার করে।
আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম এবং এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ সদস্য ও এক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও মুখোমুখি অবস্থানের পর পুলিশ কংগ্রেস স্কয়ার খালি করে দেয়। তবে সেখানে কিছু বিক্ষোভকারী অবস্থান করছিলেন।
এর আগে, ব্যাপক পুলিশ মোতায়েনের মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেন।
বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষ সরকারের কিছুটা পরিবর্তিত অবস্থানের বিরোধিতা করতে সরে আসেননি। এর আগে সরকার আইনের একটি অংশ বাদ দিয়েছিল, যেখানে বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্জেন্টিনায় জমি কেনার সুযোগ সহজ করার প্রস্তাব ছিল।
এএফপির প্রতিবেদক জানান, বিক্ষোভকারীদের হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা এবং ‘দেশ বিক্রির জন্য নয়’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে।
কংগ্রেসে আলোচিত ‘বেসরকারি সম্পত্তির অবিচ্ছেদ্যতা’ বিলটিতে দেশটির সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সহজ করা, গ্রামীণ জমির ব্যবহারবিধি পরিবর্তন এবং সরকার যাতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নিয়ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
লিবার্টেরিয়ান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকার মনে করছে, এই বিল বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করবে।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো এই বিলের কঠোর বিরোধিতা করছে, তারা বলছে, এর ফলে দেশের ভূখণ্ড ও সম্পদের ওপর বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং ‘উপনিবেশায়ন, বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
৭২ সদস্যের সিনেটে মিলেইর দলের মাত্র ২০টি আসন রয়েছে। এ কারণে সরকার বিদেশিদের জমি কেনার বিষয়ে প্রস্তাবিত অধ্যায়টি বাদ দিতে বাধ্য হয়। ওই প্রস্তাবে বিদেশিদের জমি কেনার সীমা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার কথা ছিল।
বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য গবেষকদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ শতাংশ বিদেশিদের মালিকানাধীন। এর পরিমাণ ইংল্যান্ডের আয়তনের কাছাকাছি।
তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, কিছু অঞ্চলে বিদেশি মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানিসম্পদ, খনিজ সম্পদ বা বন্দরসহ কৌশলগত সুবিধা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে বিদেশি মালিকানা বেশি।
৬৭ বছর বয়সী কার্লোস মিনো বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে জানান, সরকারের কিছু পরিবর্তনের পরও তিনি আইনটির বিরোধিতা করছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘প্রায় পুরো বিলটিই একই দিকে যাচ্ছে। কোনো না কোনোভাবে এটি আমাদের সম্পত্তি, আমাদের যা কিছু আছে, তা অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মতো।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন