প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অধ্যক্ষ পদায়ন, দায়িত্ব গ্রহণ এবং এক দিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল—একের পর এক ঘটনায় নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে গভীর রাতে কলেজের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদলের দুই পক্ষ।
এক পক্ষ তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে। অন্য পক্ষ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন কলেজে প্রবেশ করলে সাধারণ শিক্ষার্থী, কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। পরে তারা কলেজ প্রাঙ্গণে আনন্দ মিছিল করেন।
এর আগে কলেজ ছাত্রদলের একাংশ ও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। পরে ছাত্রদলের অপর অংশ এবং বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করলে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান।
এর আগে রোববার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের পাশের কম্পিউটার সেকশনের দরজায় পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। নৈশপ্রহরীরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আগুন দেওয়া ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। পরে নৈশপ্রহরীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
কলেজে চলমান বিরোধের সূত্রপাত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও পরবর্তী সময়ে সেই পদায়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কার্যালয়ে যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি পূর্বধলা সরকারি কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে পরদিন ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীর পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে অধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন স্থায়ী হয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকেন আনোয়ারুল হক রতন।
এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কলেজ ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন প্রকাশ্যে আসে। একটি পক্ষ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। অপর পক্ষ অধ্যাপক আকবর আলীর পদায়ন বাতিলের পেছনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ দাবি করে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কলেজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক রতন বলেন, তাঁকে হেয় করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধ্যক্ষ পদায়ন বাতিল, অগ্নিকাণ্ড এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পূর্বধলা সরকারি কলেজে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন