প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকাই চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান খলনায়ক নাসির খানের জন্মস্থান পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয়দের মতে, সেখানে একটি গলি বর্তমানে ‘নাসির খানের গলি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এই নামকরণের উদ্দেশ্য হলো প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
নাসির খান ১৯৫৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মঠবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মফস্বল থেকে উঠে এসে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
নাসির খানের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ১৯৮৫ সালে ‘চোর’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর তিনি প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। হুমায়ুন ফরীদি, রাজীব, এ টি এম শামসুজ্জামান ও আহমেদ শরীফের মতো খ্যাতিমান খলনায়কদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করে নিয়েও তিনি নিজস্ব অভিনয় শৈলীতে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘বিক্ষোভ’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘ভালোবাসার ঘর’, ‘পাগল মন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ এবং ‘গরিবের রাণী’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাসির খানের সংলাপও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। তার অভিনীত বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মুখে ফিরেছে।
২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি নাসির খান মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্ত্রী মেহেরুন্নেসা এবং তিন কন্যা—নাছিমা খানম মমতা, ফাহিমা খানম শর্মিতা ও মহিমা খানম নিশিতাকে রেখে যান।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের বাসিন্দা সজীব মিত্র জানান, "ছোটবেলা থেকেই আমরা তার সিনেমা দেখতাম। তিনি আমাদের এই জনপদের একজন কৃতী সন্তান। শুরুতে বিষয়টি জানতাম না। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তিনি আমাদের এলাকার মানুষ ছিলেন। শুক্রবার হলে ছুটে যেতাম তার সিনেমা দেখতে। শুনেছি জন্মস্থানের ভিটা ঘিরে নাসির খানের গলি নামে পরিচিত।"
প্রবীণ সাংবাদিক দেবদাস মজুমদার আরটিভিকে বলেন, "নাসির খানের বাড়ি এ উপজেলার একটি ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন, তবে গ্রামের বাড়িতে খুব একটা আসতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন অভিনেতা ও শিল্পমনা মানুষ। পরিচিত মুখ হিসেবে তার অভিনয় আমাদের জনপদের মানুষের কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। মৃত্যুর পরও মানুষ তাকে তার অভিনয় ও কাজের মাধ্যমে মনে রেখেছে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন