প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নার্পিটিমুনাই অঞ্চলের বাসিন্দা সিভারাসা আনোজান নামের এক তামিল যুবক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের জন্য সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। আনোজান জীবিকার তাগিদে প্রায় নয় মাস আগে সেখানে গিয়েছিলেন।
ঘটনাটি শ্রীলঙ্কায় অনলাইনে ঘটে যাওয়া একটি ধর্মীয় বিতর্কের সূত্রপাত। আনোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি পবিত্র কাবা শরিফকে একটি মন্দিরের রূপে উপস্থাপন করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবি শেয়ার করেছিলেন এবং মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। পরে পোস্টটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয়। জানা গেছে, কাতারগামায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার সময় তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে আসা একটি কুকুরকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ এই তর্কের উদ্ভব ঘটে।
আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টে আনোজান জানান যে, তিনি পোস্ট করার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই তা মুছে ফেলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি যুক্তি দেন যে, তর্কের উত্তেজনার কারণে ওই মন্তব্যটি করেছিলেন এবং ইসলাম বা মহানবী (সা.)-কে অপমান করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
সাইবার অপরাধ দমন আইনের আওতায় আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট প্রথমে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন মিলিয়ন (৩০ লাখ) সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল। আনোজান এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউশন শরিয়াহ আইনের অধীনে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আপিল দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে প্রসিকিউশনের আপিলটি গৃহীত হয় এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিত হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্টের আপিল নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করবে। শ্রীলঙ্কা সরকার সৌদি আরবে আনোজানের আইনি খরচের ব্যয়ভার বহন করবে এবং ইতোমধ্যে তার পরিবার যে অর্থ প্রদান করেছে তা ফেরত দেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের মাধ্যমে তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আনোজানের বাবা-মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, আনোজানের ক্ষমা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব আইনি ও কূটনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে। সৌদি আরবের বাদশাহর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হবে। শ্রীলঙ্কার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (প্রেসিডেন্টস কাউন্সিল) উপুল কুমারাপেরুমা এবং ফাইজজার মুস্তফা এই মামলায় সহায়তা করতে সম্মত হয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার পাঁচটি গণমাধ্যম সংস্থা—ফ্রি মিডিয়া মুভমেন্ট, সাউথ এশিয়ান উইমেন ইন মিডিয়া, শ্রীলঙ্কা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, তামিল মিডিয়া অ্যালায়েন্স এবং শ্রীলঙ্কা মুসলিম মিডিয়া ফোরাম—এক যৌথ আবেদনে সৌদি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আনোজানকে ক্ষমা করার জন্য সৌদি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন